৩১শে মে, ২০২০ ইং , ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সচল হোক সচিবালয়

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সচল হোক সচিবালয়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতির জন্য সচিবালয়ের অগ্রযাত্রার বিকল্প নেই। করোনা ভাইরাসের অজুহাতে বন্ধ হওয়া সচিবালয় খুলে দেয়াটা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। এটা দেশের স্বার্থেই জরুরি। বিশেষত আমরা জানি, আমদানি খাত থেকে দেশের রাজস্ব আয় আসে অনেক পরিমাণ। সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খোলা না থাকায় এ আয় প্রতিনিয়ত ব্যহত হচ্ছে। দেড় মাস ধরে দেশের প্রশাসন কাঠামো পরিচালনা কেন্দ্র সচিবালয় বন্ধ রয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটির সুবাদে বন্ধ রয়েছে সচিবালয়। যার প্রতিক্রিয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব কার্যক্রম।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশজুড়ে লকডাউন পালন করা এবং ৩ কোটির বেশি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের যখন বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তখন সচিবালয় বন্ধ থাকায় অর্থ সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। যেসব খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আসে সে খাতগুলোর কার্যক্রম বলতে গেলে বন্ধ রয়েছে। সামুদ্রিক ও স্থলবন্দরগুলো এখনো সচল করা সম্ভব হয়নি পুরোপুরি। ভূমি রাজস্ব আদায়ও বন্ধ। কিছু দফতর খুললেও সেগুলোয় তেমন কাজকর্ম হচ্ছে না। উন্নয়ন কর্মকা-কে কেন্দ্র করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব অর্জিত হয়। সে খাতও এখন বন্ধ। এ অবস্থায় প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয় পূর্ণাঙ্গভাবে কবে খুলবে, কবেই বা গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো নিজেদের কাজে সক্রিয় হবে- এ নিয়েই এখন আলোচনা বিভিন্ন মহলে।

সরকারের সাবেক আমলা, সংশ্লিষ্টজন ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার যেহেতু ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে বিভিন্ন অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানা খুলে দিয়েছে, সেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়সহ রাজস্বের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোও খুলে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রায় দুই মাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এসব দফতরে ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ স্থাপন করে শিফটিংয়ের মাধ্যমে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালানো এখন সময়ের দাবি। করোনা ভাইরাস-জনিত সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আগামী দু-তিন বছর কঠিন সময় পার করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে পূর্ণাঙ্গভাবে সক্রিয় করা জরুরি। এ উদ্দেশ্যে সচিবালয় চালুর বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস আমদানি খাত। দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলো থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে।

রাজস্বের এ উৎসগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খোলার উদ্যোগ নিতে হবে। রাজস্ব আয়ের স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঁচ তারকা হোটেল, ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাবের মতো রাজস্ব দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখার কোনো অর্থ নেই। দেশের সরকারি কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর স্বার্থে সচিবালয়কে সচল করুন। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সচিবালয় পরিচালনা করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com