৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

স্মার্টকার্ড দেশেই বানাতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশেই স্মার্টকার্ড তৈরির প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশনের কারিগরি কমিটি। সাত সদস্যের এই কমিটির প্রধান ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও কমিটি সদস্য বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও চীনে গিয়ে কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) নমুনা স্মার্টকার্ড পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিয়েছেন তারা। তাদের সুপারিশে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে স্মার্টকার্ড আমদানি না করে সার্বিক নিরাপত্তা ও কার্ডের মান নিশ্চিত করে যৌক্তিক হারে মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বিএমটিএফ-এর মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কার্ড কেনা যেতে পারে।

স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিস নামে এক কোম্পানির সঙ্গে ২০১৪ সালে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি। তাদের সঙ্গে চুক্তি ছিল নয় কোটি কার্ডের। দফায় দফায় পিছিয়ে সেই কার্ড বিতরণ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এর মধ্যে আরও সোয়া কোটি ভোটার যুক্ত হয়েছেন তালিকায়; আর মৃত্যু হওয়ায় তালিকা থেকেও বাদ গেছে কয়েক লাখ নাম। আঠারোর কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান। ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের তো বসে থাকলে চলবে না। ভোটার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্মার্টকার্ড দেয়ার প্রস্তুতিও রাখতে হবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই মানের স্মার্টকার্ড তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি। তিনি জানান, কারিগরি কমিটি গত ফেব্রুয়ারিতে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা এখন যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। নয় কোটির বাইরে আরও দেড় কোটি মানুষের হাতে স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্যে সরকারি অর্থায়নের বিষয় রয়েছে।

ইসিতে প্রস্তাব তোলার পর তা অনুমোদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। কমিটির সদস্যরা বলছেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিএমটিএফ ইতোমধ্যে ইভিএম, ভেহিক্যাল রেজিস্ট্রেশন প্লেট, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, আরএফআইডি ট্যাগ তৈরি করেছে। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষের ওয়েব বেজড প্রিজন ভ্যান, বিএডিসির মোবাইল সিড টেস্টিং ল্যাবও তারা বানিয়েছে। মান বজায় রেখে সেখানে স্মার্টকার্ডও তৈরি করা সম্ভব। বুয়েটের অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বিএমএটিএফ ইতোমধ্যে নমুনা উপস্থাপন করেছে। তারা যাচাই করে দেখেছেন, দেশে উৎপাদন করলেও বিদ্যমান স্মার্টকার্ডের মতোই ‘সব ধরনের মান রক্ষা করা’ সম্ভব। ফ্রান্সের টেকনলজি ব্যবহার করে এ প্রকল্প চিরদিন চালানো যাবে না।

ভোটার বাড়ার সঙ্গে চাহিদা বাড়ছে, নিজেদেরও তৈরি করতে হবে। এ সংক্রান্ত দ্বিতীয় একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, এখন শুধু সিদ্ধান্তের বিষয়Ñ কখন থেকে শুরু হবে এ কাজ। কারিগরি কমিটির সদস্যরা জানান, বিএমটিএফ এর নমুনা কার্ডের বেন্ডিং টেস্ট, সিকিউরিটি ফিচারস, ইউভি রে টেস্ট, মাইক্রো টেস্ট, পার্সোনালাইজেশন এবং ডাইমেনশন ও পজিশনিং টেস্ট করেছেন তারা। বিদ্যমান স্মার্টকার্ডের ২৭টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট এ কার্ডেও রয়েছে। বেন্ডিং, মাইক্রো, লেজার এনগ্রেভিং ও প্রিন্টিং. ডাইমেনশন ও পজিশনিং টেস্টের ফলাফলে কমিটি সন্তুষ্ট। তবে ইউভি রে-এর ব্রাইটনেস ও কালির পরিমাণ আরও বাড়ানো যেতে পারে বলে কারিগরি কমিটি মনে করছে।

অন্যদের মধ্যে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, সিস্টেম এনালিস্ট ফারজানা আখতার, সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হায়দার রয়েছেন এই কারিগরি কমিটিতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com