সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হোক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমাদের কোমলমতি শিশুরা পথে নেমে এলে দেশের সর্বোচ্চ কর্তাদের নড়েচড়ে বসার গল্পটা আমরা জানি। অনেক দিন হয়ে গেল। কিন্তু বির্ধিমালা চূড়ান্ত হতে বাধা কোথায়? দু হাজার আঠারোর এই আইন চূড়ান্ত হতে আর কত বছর লেগে যাবে? এ প্রশ্ন সবারই। আবারও আগের মতোই অবস্থা সড়কে-মহাসড়কে। অবসান হয়নি বিশৃঙ্খলা, অবস্থা যা ছিল তা-ই রয়ে গেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের পর সরকার নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু এক বছর পার হওয়ার পরও ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ কার্যকর হয়নি। বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় তা কার্যকর হচ্ছে না। আইনজ্ঞরা বলছেন, বিধিমালা ছাড়াই আইন কার্যকর করা সম্ভব। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অনেক আইন বিধিমালা হওয়ার আগেই কার্যকর করা হয়েছে। তাহলে আইনটি কেন কার্যকর করা হচ্ছে না? জানা গেছে, মূলত পরিবহন নেতাদের তুষ্ট রাখার জন্যই তা করা হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর গত বছরের ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া অনুমোদিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে তা অনুমোদিত হয়; প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ৮ অক্টোবর। সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে আইনের ৯৮ ও ১০৫ ধারায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এগুলো জামিন অযোগ্য ধারা। ১০৫ ধারায় দায়ী চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ- দ-বিধি অনুসারে হবে। ৯৮ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের কারাদ-। এ ধারায় বিচার হবে মোটরযান আইনে। ১(২) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার গেজেটের মাধ্যমে যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সেই তারিখে এটি কার্যকর হবে। কিন্তু বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় সেই গেজেট ঘোষণা করা যাচ্ছে না।

আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য চালক দায়ী হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। অনেকে বলে, সর্বোচ্চ শাস্তি আরো বেশি হওয়া উচিত। এরশাদ আমলে প্রণীত আইনে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছিল। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে তিন বছর করা হয়, যা এখনো বহাল আছে। এদিক থেকে দেখলে নতুন আইনে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে; কিন্তু আইন কার্যকর হচ্ছে না বিধিমালার অভাবে। এ অবস্থার মধ্যেই পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তৎপর হয়েছেন। তাঁরা শাস্তি ও জরিমানা কমানো এবং আইনের বিভিন্ন ধারা জামিনযোগ্য করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। মূলত তাঁদের কারণেই বিধিমালা চূড়ান্তকরণ থমকে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও আইনটিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থই বেশি এরপরও কার্যকর হলে এটি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে। কিন্তু পরিবহন নেতারা বিধিমালা চূড়ান্তকরণে বাদ সাধছেন। যত চাপই আসুক সরকারকে দৃঢ় থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চাপ অগ্রাহ্য করে বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে বলে আমরা মনে করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com