সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

হজব্যবস্থাপনায় সরকারের বড় সফলতা

হজব্যবস্থাপনায় সরকারের বড় সফলতা

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : হজ্জ ১৪৪০ হিজরীর সকল কার্যক্রম শেষ হয়েছে। হাজি সাহেবগণ এখন বাড়ি ফিরে আসছেন। প্রতিদিন কয়েক হাজার হজ্জযাত্রী ঢাকার পথে। এভাবে হাজি সাহেবগণ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ফিরবেন।

তবে একটা বিষয় এবার লক্ষ্য করলাম, হজ্জ ব্যবস্থাপনা এখন আর আগের মত নেই। ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এই ব্যবস্থাপনায়।

বর্তমান সরকার হজ্জ ব্যবস্থাপনা অনেক সুন্দরতর করতে সক্ষম হয়েছেন। হজ্জের যাবতীয় ইন্তেজাম অনেক খানি গুছিয়ে ফেলেছে এ সরকার। আগের মত হযবরল অবস্থা এখন আর চোখে পড়ে না।

এক সময় হাজার হাজার হজ্জযাত্রী চোখের পানি ফেলত ঢাকা এয়ারপোর্টে। হাজি ক্যাম্পে আহাজারী দেখা যেত হজ্জ যাত্রীদের। লক্ষ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পরেও তাদের হজ্জ যাত্রা অনিশ্চিত থাকত। এহরামের কাপড় পরেও তারা বিমানের টিকিট পেত না। মোটকথা নানান ভোগান্তির শিকার হত আল্লাহর রাস্তার মেহমানগণ।

মহান আল্লাহর দরবারে অসংখ্য অগণিত শুকরিয়া আদায় করি, সেই সাথে বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই, আগের সেই অব্যবস্থাপনাগুলো এখন আর নেই।

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া, বাকি সকল দিকেই হজ্জ ব্যবস্থাপনায় সরকারের বড় সফলতা।

ভালকে ভাল না বলাটাই অকৃঘ্নতা। না- শোকর করা হবে। এমন ভাবে হজ্জ ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে এই সসরকার, যেটা করারই প্রয়োজন ছিল।

এখন আর ঢাকা এয়্যারপোর্টে হাজার হাজার হাজি সাহেবের কান্না চোখে পড়েনা। প্রতারক চক্রের খপ্পরও অনেক খানি কমে গেছে। কম টাকার প্রলোভন দেখায়ে হজ্জ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার গ্রপ লিডার ও ময়দানে দেখা যায় কম।

হাজি সাহেবদের সবচেয়ে বেশী বিড়ম্বনা ছিল, হজ্জ ফ্লাইট নিয়ে। হাজি সাহেবগণ হজ্জ যাত্রার তারিখ জানতে পারতেন না। ফ্লাইট নিয়ে হাজি সাহেবদের ভোগান্তি হওয়া লাগত চরম ভাবে। হজ্জে যাওয়ার সময়, এমনি ভাবে বাড়ি ফেরার সময়। ফ্লাইট সিডিউল এলোমেলো হওয়ার কারণে হজ্জযাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে দিনের পর দিন। ঢাকা এয়্যার পোর্ট এবং ফেরার পথে জেদ্দা বিমান বন্দরে হাজারো হজ্জযাত্রীর গড়াগড়ি খেতে দেখা গেছে।
আলহামদুলিল্লাহ, এখন আর বিমানের টিকিট নিয়ে বিড়ম্বনা কমে গেছে। যাত্রার সিডিউল আর মিস হচ্ছে না। ঢাকা আর জেদ্দা বিমান বন্দরে হাজিদের দুর্ভোগ নেই বললেই চলে।

হজ্জ যাত্রার অনেক পুর্বে থেকে হাজি সাহেবগণ তাদের ফ্লাইটের তারিখ জানতে পারছেন। যাওয়া আসার টিকেট আগে থেকে কনফার্ম হয়ে যাচ্ছে। কবে হজ্জে যাবে আর কবে ফেরত আসবে সব কিছু জানতে পারছেন অনেই আগে থেকেই।

হাজিদের সব তথ্য এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। অনলাইন সিষ্টেম হওয়াতে হাজি সাহেবগন বাড়ি বসে সব কিছু দেখতে পারেন। প্রাক- নিবন্ধন, নিবন্ধন, হলো কিনা অনলাইনে জানা যাচ্ছে। হাজিদের মক্কা মদিনার বাড়ি কোথায়, মক্কায় হাজি সাহেব কোথায় থাকবে, আবার মদিনায় কোথায় থাকবে, সব কিছু তথ্য অনলাইনে দেখা যায়।

অনলাইনে এখন হাজিদের যাবতীয় তথ্য। একটু সার্স করলে সব দেখা যায়। সব কিছু জানা যায় হাজিদের অবস্থা।

হাজিদের মেডিকেলের তথ্য অনলাইনে। মেডিকেল না করায়ে আর কোন হাজি সাহেব মক্কা মদিনায় যেতে পারবে না। প্রত্যেক জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জন অফিসে মেডিকেল করানোর ব্যবস্থা রয়েছে। যাতে হাজি সাহেবগন অনায়েসে মেডিকেল করাতে পারেন।

প্রতিটি জেলা পর্যায়ে হজ্জ যাত্রীদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ট্রেনিং এর ব্যবস্থা আগে ছিল না। হজ্জযাত্রার পুর্বে প্রত্যেক হাজি সাহেবের ট্রেনিং নেওয়া জরুরি। প্রশিক্ষণ না নিলে সফরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। সরকার বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে হাজিদের ট্রেনিং এর নিয়ম করেছেন। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে এখন হজ্জযাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

হাজিদের জেদ্দার ইমিগ্রেশন এখন ঢাকায়। অবিস্বাস্য হলেও সত্য। আমাদের সরকারের প্রচেষ্টায়, হাজিদের কষ্ট লাঘবের জন্য জেদ্দার ইমিগ্রেশন এখন ঢাকাতে হচ্ছে। জেদ্দাতে ঘন্টার পর ঘণ্টা হাজী সাহেবদের ইমিগ্রেশন এর জন্য বসে থাকতে হত। এখন সে কাজটি ঢাকাতেই হচ্ছে। জেদ্দায় হাজিদের আর কোন কষ্ট নেই। এটা সরকারের এক বড় সফলতা।

ভিনদেশের ইমিগ্রেশন আমাদের ঢাকায় হওয়া এক বিশাল ব্যাপার।

মোটকথা, হজ্জ ব্যবস্থাপনায় আমুল পরিবর্তন এসেছে। অনেক সুন্দর ইন্তেজাম এখন।

আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে মোবারকবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। আল্লাহ তায়ালা সকলকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com