শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

হজ কার্যক্রম শুরু

হজ কার্যক্রম শুরু

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : হজ্জের আমল শুরু হয়ে গেল। আজ হাজিরা ইহরাম বেঁধে মিনায় যাচ্ছেন। হজ্জের মুল কাজ ৮ জিলহজ্জ থেকে শুরু।
মক্কা শরিফ থেকে মিনা তিন মাইল দুরে। দুই ধারে পাহাড় বেষ্টিত এক ময়দান। এখানে তাঁবু বানানো আছে। সেই তাঁবুতে অবস্থান করে হাজিগণ হজ্জের আমল গুলো আদায় করবেন।

মক্কা শরীফে হাজি সাহেবগন পৌঁছে গেছেন। বিশ্বের বহু দেশ থেকে মুসলিম ভাইয়েরা মক্কায় জমা হয়েছেন। প্রায় আঠারো লক্ষ হাজি দেশ- বিদেশের। সবাই এখন প্রস্তুত। সেই সাথে প্রস্তুত রয়েছেন সৌদি সরকার।

সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনা খুবই সুন্দর। হাজিদের উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য সকল দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে। হাজিদের সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য সৌদি সরকারের সকল বিভাগ রেডী হয়ে আছে।

রাত থেকে হাজি সাহেব গণ ইহরাম অবস্থায় মিনায় যাওয়া শুরু করেছেন। অধিকাংশ হাজি রাতেই পৌঁছে যাচ্ছে। বাকিরা সকালে রওয়ানা হবেন।
মিনাতে ৮ জিলহজ্জ জোহর, আসর, মাগরিব, এশা, এবং ৯ তরিখের ফজর, এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। এর পর আরাফায় রওয়ানা দিবেন।

৯ জিলহজ্জ সূর্য হেলে যাওয়া থেকে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করতে হবে। আরাফার উকুফ বা অবস্থান করা ফরজ।
আরাফায় ময়দানে সুর্য ডুবে গেলে মাগরিবের নামাজ না পড়ে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা দিতে হবে। মুযদালিফা পৌঁছার পর সেখানে প্রথমে মাগরিব এরপর এশার নামাজ আদায় করতে হবে।

মুযদালিফায় সারা রাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা, সেখান থেকে শয়তানকে মারার জন্য কংকর সংগ্রহ। এরপর সুবহে সাদিক হলে ফজরের নামাজ আদায়ের পর আবার মিনার দিকে ফিরে আসতে হবে।

১০ জিলহজ্জ মিনাতে জামারায়ে আকাবায়( বড় শয়তান) এর স্থানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে। কংকর নিক্ষেপের পর কোরবানি। কোরবানি হয়ে গেলে মাথা মুণ্ডন করা, মহিলারা চুলের অগ্রভাগ সামান্য পরিমাণ কাটতে হবে।

এরপর রয়েছে তাওয়াফে যিয়ারত। যাকে বলে ফরজ তাওয়াফ। মক্কায় বায়তুল্লাহ এসে তাওয়াফ করা ফরজ। তাওয়াফের পরে সাফা মারওয়ার সায়ী রয়েছে। (এই ফরজ তাওয়াফ ১২ জিলহজ্জ সুর্য ডোবার আগ পর্যন্ত করা যায়।)

১১ জিলহজ্জ হজ্জের আমল হলো, তিন শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করা । এদিন প্রথমে ছোট শয়তানের স্হানে সাতটি, এরপর মেজে শয়তানের স্হানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ, এরপর বড় শয়তানের স্থানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে।

১২ জিলহজ্জ একই কায়দায় তিন শয়তানের স্থানে পাথর নিক্ষেপ করতে হবে।

হজ্জের এসকল কাজ গুলো মিনার তাঁবুতে থেকে করতে হবে। এই কাজ গুলো শেষ হলে, মোটামুটি ভাবে হজ্জের কার্যক্রম শেষ হবে। শুধু বাকি থাকবে বিদায়ী তাওয়াফ। বাড়ী ফেরার পুর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করা জরুরী।

আল্লাহ তায়ালা সকল হাজী সাহেবের হজ্জ সহজ করে দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com