১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

হযরত নূর হোসাইন কাসেমী বরাবর ভারাক্রান্ত হৃদয়ের আকুতি

হযরত নূর হোসাইন কাসেমী বরাবর ভারাক্রান্ত হৃদয়ের আকুতি

মুখলিসুর রহমান রাজাগঞ্জী : আমি আপনার প্রতি নেহায়েত আস্থাশীল ও শ্রদ্ধা পোষণ করে বিনয়ের সাথে কটি কথা গুযারিশ করতে যাচ্ছি।
আপনার মাদ্রাসার জনৈক শিক্ষক মনির আহমদ সম্প্রতি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আপনার শায়খুল হিন্দ ও হোসাইন আহমদ মাদানির জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিদ্রুপাত্মক নিন্দামূলক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

সে দারুল উলুম দেওবন্দের রাজনৈতিক ভাষ্যকার বিশ্ব মুসলিমের নয়নমণি আপনার শ্রদ্বাস্পদ আমাদের উস্তাদ আল্লামা আরশাদ মাদানিকে দরবারি আলেম আখ্যা দিয়েছে।

যা দেখে ও পড়ে আমরা বিস্মিত হয়েছি। আরো হতবাক হয়েছি এজন্য যে, এই ব্যক্তি নাকী আপনার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। আর এখনো আপনি ও সম্পর্কে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন নি! সে নাকি ক্ষমা চেয়ে মাসলা হল করে নিয়েছে।

কী ছিল তার পোস্টে?

সে লিখেছে-

“জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বিবৃতি চরম হতাশার, লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়।”

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ একটি আদর্শবাদি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ঈমান ইসলাম ও স্বার্থ রক্ষাবাদি সর্বাপেক্ষা বড় সংগঠন।

কাশ্মীর ইস্যুতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাশ্মীর ভারতের অংশ। পাশাপাশি তারা কাশ্মীরের জনগণের উপর অন্যায় নির্যাতন না করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন মুদি সরকারের প্রতি।

আমি জানতে চাই,এই দাবি তো শুধু ভারত জমিয়তের একা নয়।ইহা তো ভারতের সকল রাজনৈতিক দলের দাবি। ভারতের অধিবাসী হয়ে কেউ কী কাশ্মীর পাকিস্তানের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাওয়া অথবা আলাদা রাষ্ট্র হয়ে যাওয়ার দাবী করতে পারে- কেউ মানবে ? তাহলে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিবৃতি দান ভারতে অবস্থান কারিদের জন্য শতভাগ সঠিক।

সংখ্যালঘু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত প্রশংসনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত। মনির আহমদ ও তদীয় চেতনার হামখেয়াল জামায়াতী ভাইরা কী মনে করেন ? বাংলাদেশের মতো ভারত জমিয়তও কাশ্মীরীদের স্বাধীনতার শ্লোগান নিয়ে মাঠে নেমে গেলে খুব দ্রুত কাশ্মীর স্বাধীনতা লাভ করবে।

তাইলে আপনারা বিশ্ব রাজনীতে তিফলে মক্তবের স্তরো অর্জন করতে পারেন নি। বাংলাদেশের মত প্রায় ২৫ টি রাজ্য নিয়ে গঠিত ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম ই শুধু ৩০ কোটির বেশি।

এই সব মুসলমানদের উগ্রবাদী হিন্দু সম্প্রদায়ের বন্দুকের নলের মুখে তুলে ধরার মতো অপরিণামদর্শী বিবেক অন্তত জমিয়ত নেতাদের নেই।
কাশ্মীর সহ সমগ্র দেশের মুসলিম কীভাবে এই হিন্দুত্ববাদী সরকারের নখরথাবা থেকে যথাসম্ভব রক্ষা পায়।এই হলো জমিয়তের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পলিসি।

একপেশে বিবৃতি ছুড়ে মারলেন জমিয়তের বিরুদ্ধে। জানেন কী ?শতবছর ধরে ঐতিহ্যবাহী এই জমিয়ত মুসলমানদের ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থে কী কী আন্দোলন করে আসছে?

বাবরী মসজিদ ফিরে পেতে কোটি কোটি টাকা ভারতের সুপ্রিম আদালতে কারা জোগান দিচ্ছে? এই কদিন আগে তালাকের মাসআলার
ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স কারা করেছিল?

আসামের এনারসি বিরোধী আন্দোলনে মামলা করে ৪০ লাখ থেকে ১৯ লাখে নেমে আসা কাদের অবদান? জানেন-? জমিয়তের একেকটি সম্মেলনে
২০ লাখ পর্যন্ত লোকজনের সমাগম ঘটে।

পারলে ইউটিউব চ্যানেল পরিদর্শন করুন। কান পেতে শুনুন। আমরা শুনে শুনে বলছি না। ভারতে গিয়ে জমিয়তের অফিসে মাসের পর মাস অতিবাহিত করে দেখে শুনে বলছি।

আরো ১০০ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন করলেও জমিয়ত যা ভারতীয় মুসলমানদের দিয়েছে, এর সিকিভাগও আপনারা বাংলাদেশের মুসলমানদের দিতে পারবেন না।

যারা ভারতের বাইরের মুসলমান সমগ্র বিশ্বের সাধারণ মুসলমানদের মত আমরা বাংলাদেশিরাও কাশ্মীরীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাধীনতার দাবিকে মিছিল মিটিং বিক্ষোভের মাধ্যমে সমর্থন করে যাচ্ছি।

সমগ্র বিশ্বের জমিয়ত একি দাবিতে আন্দোলন করছে। এমনকি আমাদের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আপনি (কাসেমী) গ্রুপ এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশ্বের সকল জমিয়তের মূলকেন্দ্র ভারত জমিয়তের নেতা আরশাদ মাদানি কিংবা মাহমুদ মাদানী পৃথিবীর অন্য কোনো জমিয়তের শাখা বা নেতৃবৃন্দকে অথবা আপনাকে ভারত জমিয়তের চিন্তা ও সিদ্ধান্তের বিপরীত হোয়ায় কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করতে বাধা দিয়েছেন? না তো- আমাদের জানা নেই।

তাহলে বিষয়টা সহজেই অনুমেয়। তাঁরা তাঁদের লাইনে তাদের জন্য অপরিহার্য কৌশলগত পন্থার অবলম্বন করেছেন। একটি দারুল হারব রাষ্ট্রে ইসলামী আন্দোলনের কৌশল আর মুসলিম রাষ্ট্রের কৌশল সমান হোয়ার কথা নয়।

এই সহজ কথাটি মেনে নিতে পারছে না দেওবন্দ,দেওবন্দিয়াতের,কৌমিঅঙ্গনের, মাদানী পরিবারের চিরশত্রু আমাদের দেশের জামাআতি ও জামাত ঘেঁষা একটি সম্প্রদায়।

ফেসবুকে পোস্ট ও কমেন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করলে তা বুঝতে বাকি থাকে না।

কিন্তু বড় ই আফসোস ও পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি। শুধু বারিধারার এই মনির নয়। কৌমি অঙ্গনের নতুন প্রজন্মের আরো অনেককে এভাবে দেওবন্দের ও মাদানিদের বিরুদ্ধে বোকার মতো মন্তব্য করতে দেখা যায়। এটা কী অস্বীকার করতে পারবেন?

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ কংগ্রেসের সাথে মিলে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেয়ার পর থেকে যে একটি চিহ্নিত মহল জামায়াত ইসলামী জমিয়তের,দেওবন্দের,কৌমিদের স্বার্থের বিরুদ্ধাচরণ, বিষোদগার মুখে কাগজে কলমে অব্যাহত রেখেছে।

আজ তাদের সঙ্গে আমাদের কৌমি ভাইগণও তালে তালে পোস্ট লাইক কমেন্ট বিবৃতি দিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন অহরহ।

যা ২০০১ সালের ৪ দলীয় জোটের নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে অতটা দেখা যায় নি।

তাহলে কি এই দাবিটি অনর্থক অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিতে পারবেন?

যা এদেশের কিছু কিছু হক্কানী উলামায়ে কেরাম ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন- জামায়াতীদের সঙ্গে সঙ্গ মিলিয়ে চলার পরিণতিতে এমন একদিন আসবে, যখন জামায়াতীদের চিন্তা চেতনার সাথে অনেক কৌমিয়ান একাকার হয়ে যাবে।

হ্যাঁ, আমি একথাটি অকপটে স্বীকার করি। এই দেশে প্রকৃত ইসলামী রাজনীতি করতে হলে একটি দল একা একা অগ্রসরমান হতে হতে দেশ হয়তোবা ভারতের অঙ্গরাজ্য ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। দেশের সংবিধান থেকে ক্রমে ক্রমে ইসলামি চেতনার বিলুপ্তি ঘটে যাবে। তাই রাজনীতির কৌশলগত দিকটা ধরেই রাখতে হবে।

কিন্তু এর অর্থ তো এই নয় যে, বাংলার মাদানির দস্তারখায় বসে ভারতের মাদানির বিরুদ্ধে বিষোদগার করার মতো হিম্মত সঞ্চয় করে ফেলবে।
আর আমি নিরবে নিভৃতে মাদানী মাদানী শ্লোগানে আত্মতৃপ্তি লাভ করবো। না- কখনো তা মেনে নেয়া যায় না। মাদানির ঘরেই যদি মাদানী চিন্তা চেতনার শত্রুরা বাসা বেঁধে ফেলে।

এই শত্রুদের গোপন আস্তানা ভেঙ্গে দেয়া অপেক্ষা তাকে ক্ষমার সুযোগ আবারো মাদানীকে চপেটাঘাত করতে পারে। বেকায়দায় ফেলতে পারে এই চক্রের অসাধু জামায়াতী ধূর্ত দুরন্তবাজরা সহজ সরল আমাদের বুজুর্গানের ইসলামী মঞ্চ। তাই এ বিষয়ে আমাকে প্রতিপক্ষের মত না ভেবে উদার মনে দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি মনে করছি।

লেখক : শিক্ষক ও মুহতামিম

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com