১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

হাসপাতালে রোগ নির্ণয় ফি নির্ধারণ দ্রুত বাস্তবায়ন হোক

care, device, aid

মাসউদুল কাদির ● জনসংখ্যার চাহিদার কারণে দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এসব হাসপাতাল বা ক্লিনিক। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ঝামেলাও কম নয়। জনগণের দ্বারগোড়ায় সঠিক সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। এসব হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের মূল্য ও সার্ভিস চার্জ অত্যধিক বেশি। ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগণের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা দুঃসাধ্য। মূলত সে জায়গা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় সরকারিভাবে অভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা ফি ও অন্য সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এখনো এ উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পায়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের সহযোগি শক্তি হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলো কাজ করে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার মূল্য এবং সার্ভিস চার্জ অত্যাধিক ও উচ্চ হারে থাকায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগণের জন্য তা বহন করা দুঃসাধ্য।


বড় বড় নামকরা হাসপাতাল ও মধ্যম সারির হাসপাতালের মধ্যেই এই মূল্যের পার্থক্য অনেক। এক্ষেত্রে সব বেসরকারি হাসপাতাল সমন্বিতভাবে স্বেচ্ছায় উদ্যোগী হয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষের কথা বিবেচনা করে সহনীয় মাত্রার মধ্যে ফি নির্ধারণ করলে জনগণ উপকৃত হবে।


বড় বড় নামকরা হাসপাতাল ও মধ্যম সারির হাসপাতালের মধ্যেই এই মূল্যের পার্থক্য অনেক। এক্ষেত্রে সব বেসরকারি হাসপাতাল সমন্বিতভাবে স্বেচ্ছায় উদ্যোগী হয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষের কথা বিবেচনা করে সহনীয় মাত্রার মধ্যে ফি নির্ধারণ করলে জনগণ উপকৃত হবে।
অবশ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখন থেকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর রোগ নির্ণয়ের ফি নির্ধারণ করার যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা আশাব্যাঞ্জক। নিঃসন্দেহে এটা ইতিবাচক। এতে স্বাস্থ্যসেবার গড় ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে বৈকি। আলোচ্য উদ্যোগটি দ্রুত বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়- এটা আমাদের আশা।

লক্ষণীয়, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেবার মান উন্নয়নে সুপারিশ করার জন্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত এ কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে সুপারিশ প্রদানের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি মানহীন ও অবৈধ হাসপাতাল এবং ক্লিনিক চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশও রয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় চরম নৈরাজ্যের বিষয় বেশ পুরনো। বড় বড় নামকরা হাসপাতাল ও মধ্যম সারির হাসপাতালের মধ্যেই রোগ নির্ণয়ের মূল্যের পার্থক্য অনেক। দেখা যাচ্ছে, একই সেবার মূল্য একেক হাসপাতালে একেক রকম। এতে বাছবিচারহীন নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বড় কথা, নির্ধারিত ওই চিকিৎসা সেবার ব্যয় একজন দরিদ্র মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন। কাজেই এক্ষেত্রে সব বেসরকারি হাসপাতালে সরকার কর্তৃক সহনীয় মাত্রার মধ্যে ফি নির্ধারণ করে দেয়া হলে জনগণ যেমন প্রভূতভাবে উপকৃত হবে, তেমনি চিকিৎসা সেবায় বিদ্যমান নৈরাজ্যেরও অবসান ঘটবে। আমাদের প্রত্যাশা- বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা গৃহীত উদ্যোগটি অচিরেই বাস্তবায়ন করবেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com