বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১২ অপরাহ্ন

‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ না হলে ভারতে শান্তি ফিরবে না’

‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ না হলে ভারতে শান্তি ফিরবে না’

জমিয়ত-বিজেপি-আরএসএস ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আসুক

বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরশাদ মাদানী

জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান, দারুল উলূম দেওবন্দের মুহাদ্দিস মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘আরএসএস’ প্রধান মোহন ভগবত ৩০ আগস্ট শুক্রবার ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্য’ প্রসঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এই বৈঠকের পর থেকে মাওলানা আরশাদ মাদানী ও মোহন ভগবতকে নিয়ে ভারতজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। সম্প্রতি জমিয়তে উলামা হিন্দ চেয়ারম্যান ও ‘আরএসএস’ প্রধান-এর এই বৈঠককে কেন্দ্র করে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানীর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে ভারতে ‘জি মিডিয়া’। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শোয়েভ রেজা। এই সাক্ষাৎকারের মাওলানা আরশাদ মাদানীর বক্তব্যের চুম্বকাংশ পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান, দারুল উলূম দেওবন্দের মুহাদ্দিস মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, শত বছর ধরে আমাদের (জমিয়তে উলামা হিন্দের) নজরিয়া হলো, আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি, দেশের অগ্রগতি ও উন্নতির কাজ করি। ভারতে যখন যেই সরকারই আসুক না কেন, আমাদের এই নজরিয়াতে কোন পরখ ঘটে নাই। আমাদের সম্পর্ক সবার সাথেই আছে। বিজিপি-এর সাথেও আছে আরএসএস-এর সাথেও আছে। সবার সাথে আমাদের সম্পর্ক।

আমি আরএসএস-এর যেসব নেতাদের ইদানীং কাছ থেকে দেখতেছি, তাদের কেউ কেউ খুবই ভালো। বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত মানুষ। আরএসএস-এর সাথে আমার অতটা পরিচিতি ছিল না। তাদের কেউ কেউ আমার এখানে আসতো, তারা আসলে বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথন হত। তবে সব কথোপকথনই আমাদের নজরিয়াতের দৃষ্টিতেই হত। একবার তারা আমাকে বললো, আপনার এসব দাবি-দাওয়া মোহন ভগবতির সামনে হওয়া উচিৎ। আমি বললাম ঠিক আছে। এ ব্যাপারে আমার কোন সমস্যা নেই। কারণ তিনি হিন্দুস্তানের সবচে বড় পার্টির নেতা এবং বুদ্ধিমান মানুষ। যদিও ইতোপূর্বে কখনো তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয় নাই। কিন্তু সাক্ষাৎ হবার পর বুঝলাম তিনি খুবই বুদ্ধিমান মানুষ। জযবার মানুষ নন।

আমি তার সঙ্গে বৈঠকে এই কথায় বলেছি, বর্তমান অবস্থা প্রতিহিংসার রাজনীতি। এই রাজনীতি হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘুর রাজনীতি। সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের উপর এতটা বেপরোয়াভাব দেখানো হচ্ছে যে, সংখ্যালঘুর ভোটের অধিকার পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই মনমানসিকতা দেখানো যাচ্ছে সংখ্যালঘিষ্ঠদের মধ্যে। পরিণামে দেশে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজমান এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেশ এখন বিরাট এক সংকট দেখা যাচ্ছে। আমি একটাই সমাধান জানি, সেটা হলো- আমাদের সবাই হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। যেই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাদের হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে।
কেউ কেউ বলেন, বিজেপি-আরএসএস মুসলমানদের শত্রু। আমি এই কথা মানি না। আমি সবাইকে বন্ধু মনে করি।

আগামীতেও ‘আরএসএস’ প্রধান মোহন ভগবাত সাহেবের সাথে আরো বৈঠকের জন্য আমি প্রস্তুত। আমাদের দেশে অগণিত সংখ্যালঘু আছে। অতীত থেকেই আমরা হিন্দু-মুসলিম গ্রামে গ্রামে সুখে-দুঃখে একসাথেই ছিলাম। যতদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের এই অবস্থায় আবার ফিরে যাবো না, ততদিন দেশে শান্তি-সম্প্রতি ফিরে আসবে না। আমরা চাই জমিয়ত-বিজেপি-আরএসএস ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের দিকে আবার ফিরে আসুক।

মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, আরএসএস’ প্রধান মোহন ভগবাত সাহেবের সঙ্গে কথা বলে আমার ভালো লেগেছে। তাঁর সাথে কথা বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাহে তো ৬০ বছর ধরে মুসলমানের সাথে চলে আসা বৈষম্যের বিরাট এক পরিবর্তন সাধিত হবে।

সাক্ষাৎকারে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির প্রসঙ্গে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, আমাদের আর আসামবাসীর জন্য সুখবর যে, সুপ্রিম কোর্ট আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে। সেটা বরাবর মজলুম মুসলমান-হিন্দুদের পক্ষে ফয়সালা করেছে। এমনটি না হলে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়ার সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে গিয়ে দাঁড়াত। আর আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বিষয়ে সঠিক ও সুন্দর একটি ফায়সালা দিবেন। আমরা একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করি।

আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যাদের লিস্টিতে নাম আসে নাই তাদের ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই। তাঁরা ৪ মাস ধরে হাজারো ক্যাম্প বসাল যেন এই সমস্যার সামাধান দেওয়া যায়। আরো নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে যেন এটার সম্পূর্ণ সমাধান হয়ে যায়। যাদের এখনো সমস্যা সামাধান হয়নি তাদের আমি বলব ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই। ধৈর্য ধরে সামনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান।

জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান কাশ্মীরের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কাশ্মীরের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ আমি সমোচিন মনে করি না। বর্তমান সরকারের উচিৎ, কাশ্মীরের নেতৃস্থানীয় ও বুদ্ধিমান মানুষের সঙ্গে একটি বেঠক করা প্রয়োজন। তাদের সমস্যার কথা জানা এবং এর সুষ্ঠু-সুন্দর একটি সমাধান বের করা।

গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আদিল মাহমুদ

ভিডিওটা দেখুন

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com