১লা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

হয়নি হস্তান্তর, ফাটল স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়নে

হয়নি হস্তান্তর, ফাটল স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়নে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অবাক হওয়ার কিছু নেই। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নবনির্মিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম হস্তান্তরের কাজ শেষ না হতেই প্যাভিলিয়ন ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও খসে পড়ছে প্লাস্টার। এমনকি মাঠের চারিদিকে দর্শকদের জন্য বসানো অধিকাংশ বেঞ্চ ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধসে গেছে মাঠের মাটিও। ফলে সেখানে কোনো ধরনের খেলাধুলা করতে পারছেন না স্থানীয় খেলোয়াড়রা।

জানা গেছে, দেশের ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান-উন্নয়নের জন্য সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের নামে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজ শুরু করে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ৭টি উপজেলায় এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেডিয়ামটি নির্মাণে কাজ করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ ও ফোর সাইট কোম্পানি নামে দুটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। স্টেডিয়ামে একতলার প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট, মাঠে মাটি ভরাট ও মাঠের চারিদিকে দর্শকদের জন্য ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বেঞ্চ তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।

তবে জেলার ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামটি নির্মাণে নি¤œমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্টেডিয়ামটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই এটির একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও খসে পড়ছে প্লাস্টার।

এদিকে ভূঞাপুর পৌরসভার শিয়ালকোল হাট সংলগ্ন এলাকার যেখানে স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে পূর্বে সেখানে হেলিকপ্টার ওঠা-নামার জন্য হেলিপ্যাড ছিল। ফলে মাঠের জায়গাটা অনেক উঁচু। এছাড়াও প্রায় ৭০ হাজার ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ওই হেলিপ্যাডটি। হেলিপ্যাডের ইটগুলোও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সাবেক খেলোয়াড় লিপটন, মাসুদ, আশিক, অনিক, শাওনসহ অনেকেই বলেন, মাঠটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। স্থানীয় যুবকরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেকেই নেশার জগতে পা বাড়াচ্ছে।
শিয়ালকোল এলাকার দিপালী স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আক্তারুজ্জামান খান (দিপালী) বলেন, শিয়ালকোলের হেলিপ্যাড মাঠে শেখ রাসেলের নামে নির্মাণ হয়েছে একটি মিনি স্টেডিয়াম। তবে স্টেডিয়ামটি নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় এটির নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ছে। এছাড়া মাঠকে খেলার উপযোগী না করায় এর মাটি বৃষ্টির পানিতে ধসে যাচ্ছে। ভেঙে গেছে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বেঞ্চগুলো। নির্মাণ কাজ আর হস্তান্তরের অজুহাতে প্রায় দুই বছর ধরে খেলাধুলার অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে মাঠটিকে।
তিনি আরও বলেন, স্টেডিয়ামে থাকা হেলিপ্যাডটি ৭০ হাজার ইট দিয়ে তৈরি হয়েছিল। সেখানে যে ইট ছিল সেগুলো ঠিকাদার বিক্রি করেছেন। এছাড়া মাঠে মাটি ভরাটতো দূরের কথা উল্টো হেলিপ্যাডের মাটিই বিক্রি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আক্তার এন্টারপ্রাইজের সাইট ম্যানেজার শামছুল হক সবুজ বলেন, ২০১৭ সালে টেন্ডারের মাধ্যমে ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ পায় আক্তার এন্টারপ্রাইজ ও ফোর সাইট কোম্পানি। গত ২০১৯ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এরপরও নানা কারণে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তর করা যায়নি।

বর্তমানে স্টেডিয়ামটি আবার সংস্কারের সময় হয়েছে। এ কারণে বিল্ডিংয়ের কিছু কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে এবং মাঠের চারিদিকে বসানো চেয়ারগুলো ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও মাটি ধসে গেছে বলে জেনেছি। অতিদ্রুতই সংস্কার কাজ শেষ করে স্টেডিয়ামটি স্থানীয় ইউএনওর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাসরীন পারভীন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে নবনির্মিত স্টেডিয়ামটি বুঝে নেয়ার বিষয়ে আমাদের চিঠি দেয়া হয়নি। এছাড়াও বুঝে নেয়ার আগে স্টেডিয়ামটি ঠিকভাবে নির্মাণ হয়েছে কি-না বিষয়টি দেখার আছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে কেউ আসেননি বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com