১লা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

২০১৯ সালের পর গ্রামে কাঁচা থাকবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক ● গ্রামাঞ্চলে কাঁচা রাস্তা ধীরে ধীরে পরিণত হবে পাকা রাস্তায়। প্রাথমিক পর্যায়ে কার্পেটিং করা না হলেও অন্তত ইট বিছিয়ে হেরিং বন্ড করা হবে। ফলে দেশের প্র্রতিটি উপজেলার স্থানীয় হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে যেসব মাটির রাস্তা রয়েছে সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হবে। বর্ষা মৌসুমে মাটির রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযুক্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফলে প্রতিবছর ক্ষয় হয়ে যাওয়া রাস্তা মেরামতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, যা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ পরিস্থিতিতে রাস্তা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য বিদ্যমান মাটির রাস্তার উপর এইচ. বি.বি (হেরিংবন্ড) করার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত এইচ.বি বি রাস্তা না থাকায় যোগাযোগ সহজ হচ্ছে না। ফলে দুর্যোগের সময় মানুষ স্বল্পতম সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে না। কৃষি ও সামাজিক খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতে সময় সাশ্রয়, কৃষি পণ্যের দ্রুত বাজারজাতকরণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই-এর প্রতিবেদনে প্রকল্পটি হাতে নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি, প্রানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ. এন. সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তাবিত গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসই করণের জন্য হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি উপজেলায় মোট ৩ হাজার ১৪৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার গ্রামীণ মাটির রাস্তা এইচ. বি.বি করবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের অর্থে এটা বাস্তবায়িত হবে।

একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতাত্তোর গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য উন্নয়নসহযোগী সংস্থা (ইউএসএইড) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি’র মাধ্যমে ১৯৭৫-৭৬ সাল থেকে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। এ ছাড়া ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে একটি কর্মসূচি চালু রয়েছে। এ দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত প্র্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার কিলোমিটার মাটির রাস্তা তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com