১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

২০ দিনের মাথায় অচল মহাসড়ক

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্মাণের ২০ দিনের মাথায় অচল মহাসড়ক। অথচ এটি নির্মাণে সওজের ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি। রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী এখনও পড়ে আছে। দূরপাল্লার যানবাহন রাস্তাটি দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। খুলনা মহাসড়কের ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খয়েরতলা বাকুলিয়া এলাকায় এই রাস্তাটি নির্মাণের ২০ দিনের মধ্যেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে সওজের নির্মিত আরেকটি রাস্তা অল্পও কদিনেই বেহাল অবস্থা। এই রাস্তায় ১২ মিলি খোয়া দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যস্ততম ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কালীগঞ্জ শহরে প্রবেশের গেট থেকে শুরু করে ফার ইস্ট কোল্ডস্টোর এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ দেবে মাঝখানে উঁচু টিলার মতো হয়ে গেছে। পিরিয়ডিক মেনটেনেন্স প্রজেক্টের (পিএমপি মেজর) আওতায় ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এ নিয়ে পথচারী ও এলাকাবাসীর দেখা মধ্যে বিরাজ করছে  ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

সূত্রের খবর, পিরিয়ডিক মেনটেনেন্স প্রজেক্টের (পিএমপি মেজর) আতওতায় ঝিনাইদহ যশোর সড়কের চারটি স্থানে টেন্ডার পেয়ে কাজ করেন ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম। কিন্তু শিডিউল মোতাবেক সঠিক ও যথাযথভাবে কাজ না করায় মাত্র ২০ দিনেই কালীগঞ্জ উপজেলার খয়েরতলা বাকুলিয়া অংশটি দেবে গেছে। ৫ কোটিরও বেশি টাকার এসব কাজ নিম্নমানের হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সড়ক বিভাগ। হরিণাকুন্ডুর আমতলা তেলটুপি রাস্তায় যেনতেনভাবে কাজ করে দুই কোটি ৩২ লাখ টাকা জুনের আগেই তুলে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই সড়কের বিভিন্ন অংশে খোয়ার পুরুত্ব কম দেয়া হয়েছে। কাজটি করেন বাগেরহাটের ঠিকাদার মোজাফফর।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেনতেনভাবে কাজ করার অভিযোগে ঝিনাইদহের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে হেড অফিস থেকে শোকজ করা হয়েছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চুন্নু মিয়া সড়কটি পুনরায় যথাযথভাবে নির্মাণ করার দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে সরকারি টাকার অপচয় করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। মাত্র ১৫/২০ দিন আগে রাস্তাটি করা হয়। এখনও রোলারসহ সরঞ্জাম সাইটে পড়ে আছে। কাজের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম বলেন, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চারটি পয়েন্টে কাজ করেছি। কোনও স্থানে কাজ খারাপ হয়নি। কিন্তু কালীগঞ্জের খয়েরতলা বাকুলিয়া অংশে রাস্তার মূল বেইজ খারাপ হওয়ার কারণে বর্ষার পানি পেয়ে নষ্ট হয়েছে। কাজে কোনও ত্রুটি ছিল না। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান বলেন, কাজটি এখনও শেষ হয়নি, চলমান রয়েছে। কিন্তু শেষ করা রাস্তা কেন এমন হলো আমি তদন্ত করে দেখছি। অতিবৃষ্টির কারণে এমনটি হতে পারে। অনিয়ম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেন। সড়ক বিভাগের যশোর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এএসই) সুরুজ মিয়া বলেন, রাস্তা যেভাবে করার কথা সেভাবেই তো হয়েছে। কেন এমন হলো তা তদন্ত করে দেখা হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com