৩০শে নভেম্বর, ২০২০ ইং , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

২২ হাজার কিমি নদীপথ বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ●  মঙ্গলবার ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস বা আন্তর্জাতিক নদী রক্ষায় করণীয় দিবস। এটি একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠান। সারা বিশ্বে বেসরকারি পর্যায়ে পালিত হয়ে আসছে। নদীর প্রতি আমাদের করণীয় কী? নদী রক্ষায় আমাদের কী দায়িত্ব, কতটুকু দায়বদ্ধতা? এটি উপলদ্ধি ও স্মরণ করিয়ে দিতেই এমন দিবস পালনের সূচনা।

প্রসঙ্গত, একসময় বাংলাদেশে ১২শ’ চলমান নদীর নাম পাওয়া যেত, যা বর্তমানে ২শ’র বেশি হবে না। শীতকালে চলমান নদীর সংখ্যা কমে ৬০-৬৫ টিতে নেমে আসে। নদীর এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামগ্রীক পরিবেশের উপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৬ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার নদীপথ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করা অতি জরুরি।

দিবসটি উপলক্ষে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা  দেশের  বিভিন্ন নদ-নদীর অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন। আমাদের রংপুর প্রতিনিধি জানান, নদী দিবসকে উপলক্ষ করে রংপুর অঞ্চল থেকে দাবি উঠেছে তিস্তাকে জাতীয় নদী ঘোষণার। উজানে বাঁধ নির্মাণ করে ভারত একতরফাভাবে পানি আটকে রাখায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১০০টির মতো নদী বিশ্বের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তিস্তার জীবন-মৃত্যুর উপর নির্ভর করছে প্রত্যক্ষভাবে ২ কোটি ও পরোক্ষভাবে ৫ কোটি মানুষের বাঁচা-মরা। উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোতে পানি না থাকায় মরু করণের দিকে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চল।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ব্রহ্মপুত্র নদ। প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল এই নদটি বহুদিন থেকেই চর পড়ে পড়ে এখন প্রায় মৃতরূপ ধারণ করেছে। শীতে পানি থাকে খুবই কম, আর পলি জমে পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় পানি উপচে আশে পাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এদিকে বেদখল হয়ে গেছে নদী সংলগ্ন অনেক জমি। দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও চলছে। ফলে হুমকির মুখে ব্রহ্মপুত্র সেতু, সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরও। অপরদিকে নাব্যতা কমে যাওয়ায় ব্রম্মপুত্রে স্টিমার, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। শুধু ব্রহ্মপুত্র নদই নয়, পলি জমে ময়মনসিংহ জেলার ৩৮টি নদ-নদীই প্রায় মরতে বসেছে।

সিলেট অফিস জানায়, সিলেটে চলছে নদী ও খাল দখল। সুরমায়  দূষন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে চলনবিলের আয়তন। কয়েক দশক ধরে শুস্ক মওসুম ছাড়াও বর্ষা মওসুমেও পানি সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে কৃষি উত্পাদন। পেশা বদলেছে মত্স্যজীবী পরিবার। নদীপাড়ের এককোটি মানুষ পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে। নদী খেকোদের প্রভাব, দখল-দুষন আর ভরাটের কবল থেকে আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, বড়ালসহ চলনবিলের প্রধান ১৬টি নদ-নদী রয়েছে বিপদের মুখে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নদী মাতৃক বাংলার নদ-নদীগুলোর তলানিতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং উত্সমুখে ভারত বাধ দেয়ার কারণে কমে যাচ্ছে পানি প্রবাহ। বর্ষায় উজানের পাহাড়ী ঢলে ধারণ ক্ষমতার অধিক পানি প্রবাহিত হওয়ায় নদীর দু’কুল ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে পানি। ভাঙ্গনে নদী তীরবর্তী সর্বশান্ত এ মানুষেরা প্রতিবছর পরিবার নিয়ে হচ্ছে শহরমুখী। চাপ বাড়ছে শহরেও। পরিবর্তন এসেছে মানুষের জীবন জীবিকায়। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জনপদের সৃষ্টি হলেও কমে আসছে ফসলী জমি। মানচিত্রের এ পরিবর্তন থেকে বাদ যায়নি ভারত সীমান্তবর্তী নাগেশ্বরী উপজেলা।

নাব্যতা সংকটে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, গঙ্গাধর, শংকোষ, ফুলকুমার ও গীড়াই নদীগুলো ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। দু’পাশে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ বালুচর। প্রভাব পড়েছে কৃষি, জলবায়ু, ঋতু ও জীববৈচিত্র, নৌযোগাযোগ এবং মানুষের জীবন জীবিকায়।

patheo24/mr

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com