পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আধুনিক কর্পোরেট জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেস্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা—কাজের চাপে চেয়ার ছেড়ে ওঠার ফুরসতও যেন থাকে না। বাইরে থেকে এটি স্বাভাবিক রুটিন মনে হলেও, শরীরের ভেতরে চলছে হরমোনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের অবক্ষয়।
ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, রক্তে শর্করা বেড়ে যায়, এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। একইসঙ্গে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ বেড়ে গিয়ে অনিদ্রা, উৎকণ্ঠা ও মাথাব্যথা ডেকে আনে।
টেস্টোস্টেরন ও গ্রোথ হরমোন হ্রাস
চেয়ারকেন্দ্রিক জীবনযাপন টেস্টোস্টেরন ও গ্রোথ হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পেশির শক্তিতে, ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়, এবং শরীর ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে।
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ব্যাঘাত
লেপ্টিন ও ঘ্রেলিন—এই দুটি হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষুধা। কিন্তু দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাসে এদের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলস্বরূপ অকারণে ক্ষুধা বাড়ে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা জন্ম নেয় এবং স্থূলতার ঝুঁকি তীব্র হয়।
‘হ্যাপি হরমোন’ এর ঘাটতি
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীর সচল না থাকলে এন্ডোরফিন বা ‘হ্যাপি হরমোন’ কম নিঃসৃত হয়। তখন মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে, মন খারাপ বেড়ে যায়, এবং মানসিক ক্লান্তি গ্রাস করে।
সমাধান কোথায়?
প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে হাঁটুন।
লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
ডেস্কে বসেই হাত–পায়ের হালকা স্ট্রেচিং করুন।
দুপুরের বিরতিতে অন্তত ১০–১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।
শরীরের হরমোনগুলো সুস্থভাবে কাজ করলে কেবল শারীরিক নয়, মানসিক শক্তিও অটুট থাকে। তাই সচেতন হোন আজ থেকেই। চেয়ারে বন্দি না থেকে ছোট ছোট বিরতি নিন, শরীর সচল রাখুন। নিয়ম বদলালে শুধু ক্লান্তিই নয়, হতাশাও পাল্টে যাবে প্রাণচাঞ্চল্যে।
📌 সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল – হেলথ পাবলিশিং, Journal of Endocrinology


