পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী ঢাকা। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার সকাল থেকেই কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল নগরীর আকাশ। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মেলেনি, ফলে দিনের আলো ছিল ম্লান ও বিবর্ণ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা নেমে আসে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা ভোগান্তি বাড়িয়েছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
সকাল থেকেই ঢাকার শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার কারণে দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়নি। অনেক জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ মিটারের বেশি দূরত্বে কিছুই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না। এর প্রভাব পড়ে সড়ক চলাচলেও। ভোর থেকে সকালের ব্যস্ত সময়ে যানবাহন চলেছে ধীরগতিতে। কুয়াশার কারণে অনেক চালক হেডলাইট ও ফগ লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাস এবং আকাশে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে রাজধানীসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে ঘন কুয়াশা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় কুয়াশা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে এবং সূর্যের আলো ভেদ করে নামতে পারছে না। ফলে দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হচ্ছে।
কুয়াশার কারণে রাজধানীর বিমান চলাচলেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সূত্র জানায়, দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় কয়েকটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে অবতরণ ও উড্ডয়ন করেছে। তবে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে কুয়াশা ও শীতের প্রভাবে নগরজীবনে বেড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের আবহাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কুয়াশার সঙ্গে থাকা দূষিত কণা শ্বাসনালিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সকালে বাইরে বের হলে গরম কাপড় পরা, মাস্ক ব্যবহার এবং ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামী কয়েক দিন ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আংশিক আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


