‘আমরা শিক্ষক, রাজনীতিবিদ নই’

‘আমরা শিক্ষক, রাজনীতিবিদ নই’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় যখন দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তখন ঘটনাস্থলের অভ্যন্তরে জীবন বাজি রেখে শিক্ষার্থীদের রক্ষার চেষ্টা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি, বিভ্রান্তি ও কষ্টের কথা জানিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন স্কুলটির শিক্ষক পূর্ণিমা দাস।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,

“আমি মাইলস্টোনের হায়দার আলী ভবনের একজন শিক্ষিকা। দুই হাত জোড় করে বলছি, ভুল তথ্য ছড়াবেন না। মানুষের ইমোশন নিয়ে খেলবেন না। আমরা শিক্ষক, রাজনীতিবিদ নই।”

আটকা পড়া ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার গল্প

পূর্ণিমা দাস জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন। বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি স্কুল ভবনের স্কাই সেকশনে গিয়েছিলেন, যেখানে তখন প্রায় সব ছাত্রছাত্রী বেরিয়ে গিয়েছিল।

“আমি যখন স্কাই সেকশনে ঢুকি, তখন দেখি কেবল একটি বাচ্চা দাঁড়িয়ে আছে। এরপর কিছু শিক্ষার্থী অভিভাবক না আসায় আবার ঢুকে পড়ে, তাদেরকেও আমরা নিরাপদ স্থানে বসাই। কিন্তু কিছু বাচ্চা করিডোরে বা সিঁড়ির আশপাশে ছিল, যাদের কয়েকজনকে হারিয়ে ফেলেছি।”

তিনি বলেন, “Cloud সেকশনে শিক্ষার্থী বেশি ছিল। মাহরীন মিস, মাসুকা মিস এবং মাহফুজা মিস সেখানকার বাচ্চাদের বের করতে গিয়েই দগ্ধ হন। মাহরীন ও মাসুকা মিসকে আমরা হারিয়েছি, মাহফুজা মিস এখন লাইফ সাপোর্টে।”

‘লাশ গুম’ অপপ্রচারের প্রতিবাদ

পূর্ণিমা দাস বলেন, “যারা বলছেন লাশ গুম করা হচ্ছে, তাদের মানসিক অবস্থাই আমি বুঝতে পারি না। একটা বাচ্চাকে যদি বাঁচাতে না পারি, তার লাশটাতো অন্তত মা-বাবার কাছে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা যত মৃতের সংখ্যা বলছেন, সেটা একেবারে সম্ভব না। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিদিন ছুটি হলে গেটে দাঁড়িয়ে অভিভাবকদের হাতে বাচ্চাদের বুঝিয়ে দেন। আমরা যারা দুই কর্নারে ছিলাম, তারা অক্ষত অবস্থায় ফিরেছি। অনেকের লাশ চিহ্নিত করা যাচ্ছে না, কারণ শরীর ছাই হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা কেউ লাশ লুকানোর মানুষ না।”

সবার জন্য প্রার্থনার আহ্বান

স্ট্যাটাসের শেষদিকে পূর্ণিমা দাস বলেন,

“নিহতের সংখ্যা নিয়ে অনুমান না করে আসুন, আমরা সবাই প্রার্থনা করি সেই সকল শিক্ষক, স্টাফ এবং ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর জন্য যারা অকালে ঝরে গেল। একেকটা ফুল হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।”

Related Articles