পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আয়না ঘর থেকে গুম হওয়াদের উদ্ধারের দাবিতে রাজধানীতে স্বজনদের মানববন্ধন
সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ। ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই জিয়া কলোনির বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ডিউটিতে যাওয়ার জন্য। তিনি আর বাসায় ফেরেননি। গত ৯ বছরে মুখ খুলে এই অভিযোগটুকুও জাতিকে জানাতে পারেনি তার পরিবার। এভাবে একজন চাকরিরত সেনাসদস্য কোথায় গেলেন তাও কেউ খুঁজে দেখেনি। অবশেষে গতকাল তার পরিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন সুলতান মাহমুদের সন্ধানের দাবি নিয়ে। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, কোনো কারণে হয়তো এই সেনাসদস্যকেও আয়নাঘরে বন্দী রাখা হয়েছে। পরিবার তার মুক্তির দাবি করেছেন। নিখোঁজ আরো অনেক মানুষের স্বজনরা হাজির হয়েছিলেন, ‘আয়নাঘর থেকে সকল ব্যক্তির মুক্তি চাই’ লেখা ব্যানার নিয়ে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। সেখানে সুলতান মাহমুদের জামাতা মো: বাবুল আক্তার বলেন, তার শ্বশুর চাকরিরত অবস্থায় নিখোঁজ হন। এর পর তারা অভিযোগ করেছিলেন। যারা তদন্ত করেছেন, তারা শুধু এ টুকু জানিয়েছেন সুলতান মাহমুদ গেট থেকে বের হয়েছেন। এর পর কী ঘটেছে সুলতান মাহমুদের তা তদন্তে প্রকাশ পায়নি। বাবুল আক্তার বলেন, এরপর তার শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যদেরকে কৌশলে জিয়া কলোনি থেকে বের করে দেয়া হয়। এর পর তারা যশোরের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সুলতান মাহমুদের বড় মেয়ে সুবর্ণার স্বামী হলেন বাবুল আক্তার। তার অপর দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে সিজান মাহমুদ (২২) ও ছোট মেয়ে মীম সুলতানা (১৫)। পিতার নিখোঁজের পর থেকেই মানসিকভাবে ভারসাম্য হারায় সিজান মাহমুদ।
অপর একজন নিখোঁজ ওসমান গনি রানা। ১০ বছর আগে যখন তিনি নিখোঁজ হন তখন তার বয়স ২৫। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ব্যবসায়িক কাজে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। আর বাড়ি ফেরেননি। তার বাড়ি কেরানিগঞ্জের আটিপাড়ায়। বাবা মো: আব্দুস সামাদ এই ঘটনার পর গোদাগাড়ি থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ নিয়ে। পুলিশ কোনো অভিযোগ রাখেনি। উল্টো তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছে। পরে তারা রাজশাহীর আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। কিন্তু ওই মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। রানার বোন শারমিন আক্তার চাঁদনী গতকাল হাজির হয়েছিলেন প্রেস ক্লাবের মানববন্ধনে। তিনি তার ভাইকে ফেরত চেয়েছেন। তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জনকে যেহেতু আয়না ঘর থেকে ফেরত দেয়া হয়েছে তাদের ধারণা তার ভাইও আয়না ঘরে বন্দী আছে। তারা বলেন, এত দিন তারা নির্যাতনের ভয়ে মুখ বুজে ছিলেন। এখন সুযোগ এসেছে ভাইকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানোর।


