পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলা সমর্থন করবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর বদলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার পক্ষে তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকরা বাইডেনের কাছে জানতে চান, ইসরায়েল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করতে চায়, তাতে আপনি সমর্থন দেবেন কি না? এতে বাইডেন সোজাসাপটা জবাব দেন, ‘না’।
সাংবাদিকদের বাইডেন বলেন, ইসরায়েলিরা কী করতে যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো, তবে আমাদের সাত জনের (জি-৭ দেশগুলোর প্র্ধানরা) সবাই একমত যে তাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার আছে, কিন্তু তাদের সমানুপাতিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত।
তিনি জানান, তিনি শিগগিরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু কবে কথা বলবেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো কিছু বলেননি বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
বাইডেন জোর দিয়ে বলেন, ইরান বড় ভুল করেছে। ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
এর আগে বাইডেন জি-৭ দেশগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাজ্য) সরকার প্রধানদের সঙ্গে ইসরায়েল-ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে কথা বলেন।
মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলে ১৮০ টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ইরান। এ হামলার জন্য ইরানকে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, এইবার সম্ভবত ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হবে। ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা অথবা তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে ইসরায়েলের সঙ্গে যে তিনটি দেশের সামরিক বাহিনী কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্যতম। অপর দু’টি দেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। কিন্তু ওয়াশিংটন এক্ষেত্রে কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।


