পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেতা আগা খান ৮৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। মঙ্গলবার পর্তুগালের লিসবনে তার পরিবারের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। আগা খান ফাউন্ডেশন ও ইসমাইলি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিয়া ইসমাইলি মুসলমানদের ৪৯তম বংশগত ইমাম এবং প্রিন্স করিম আল-হুসাইনি আগা খান চতুর্থ পর্তুগালে তার পরিবারের উপস্থিতিতে মারা গেছেন।
বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী আগা খান ২০ বছর বয়সে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ইসমাইলি মুসলমানদের আধ্যাত্মিক নেতা হয়ে ওঠেন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল এবং স্কুল নির্মাণে কোটি কোটি ডলারে নির্মিত একটি বস্তুগত সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিলেন।
প্রিন্স করিম আগা খান ১৯৫৭ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে তার দাদার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি, যার সংস্থা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আগা খান সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং ফ্রান্সের এক প্রাসাদে বসবাস করতেন। তার সম্পদের পরিমাণ ২০০৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। ঘোড়া প্রতিপালনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতেও তার বিশাল বিনিয়োগ ছিল। বিশেষ করে, তিনি ইউরোপের অন্যতম সফল ঘোড়া প্রজননকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিখ্যাত ঘোড়া শেরগার ১৯৮১ সালে এপসম ডার্বি জয় করেছিল, তবে ১৯৮৩ সালে এটি অপহরণের শিকার হয় এবং আর কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী বহু হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প পরিচালনা করেছে। তিনি পাকিস্তানের করাচিতে আগা খান ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং হার্ভার্ড ও এমআইটির যৌথ উদ্যোগে আগা খান প্রোগ্রাম ফর ইসলামিক আর্কিটেকচার চালু করেন। ভারতীয় ঐতিহ্যের সংরক্ষণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, বিশেষ করে দিল্লির ঐতিহাসিক হুমায়ুনের সমাধির সংস্কারে।
সূত্র: এপি, বিবিসি


