পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আবারো চড়ছে। গাজা ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ থাকলেও ইরানকে ঘিরে ইসরাইলের রাজনৈতিক মহলে জাতীয় ঐকমত্য বিরাজ করছে। সম্প্রতি আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত মিলেছে—ইসরাইল আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
আকস্মিক হামলা এবং ইরানের ক্ষয়ক্ষতি
গত মাসে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এতে কয়েকজন ইরানি সামরিক নেতা নিহত হন এবং ইরানের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে।
নেতানিয়াহুর কৌশলগত অবস্থান
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইচ্ছা তার নেই। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা হারানোর আশঙ্কায় নেতানিয়াহু আবারো ইরানকে আঘাত করে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে পারেন।
যুদ্ধের লক্ষ্য: শাসনব্যবস্থার পতন?
ইসরাইল দাবি করছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতেই হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টার্গেট করে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করেছে ইসরাইল।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি বলেন, “ইসরাইল চায় ইরান যেন লেবানন বা সিরিয়ার মতো হয়ে যায়—যেখানে ইসরাইল চাইলে হামলা চালাতে পারে এবং জবাবদিহির প্রয়োজন পড়ে না।”
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ
ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রও আগস্টের মধ্যে নতুন চুক্তিতে ইরান সম্মত না হলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এতে ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে এবং তা ইসরাইলের নতুন হামলার সুযোগ তৈরি করবে।
ইসরাইলের গোপন অভিযান
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইসরাইল ইতোমধ্যে ইরানের ভেতরে নাশকতামূলক গোপন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর পেছনে তাদের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভির মতে, নেতানিয়াহু এমন কৌশল নিচ্ছেন যাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পরও ইরানে হামলা চালানো সম্ভব হয়।
ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে বলেন, “আমরা ইসরাইলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” ইরান পুনরায় ইসরাইলের গভীরে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের কথাও জানায়।
সম্ভাব্য সংঘাত: কূটনীতি না যুদ্ধ?
ইসরাইলের রাইখমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেইর জাভেদানফার বলেন, “যুদ্ধ শুরুর জন্য ইসরাইলকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে যে ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিও লাগবে।”
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এবার আর অপ্রস্তুত থাকবে না। কূটনৈতিক সমাধানকেই তারা বেশি প্রাধান্য দিতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের ছায়া ঘনাচ্ছে। ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা এখন আর শুধু আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির অনিবার্য এক অংশ হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, আলোচনার টেবিলে সমাধান আসে, নাকি যুদ্ধের ময়দানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
সূত্র: আল জাজিরা


