উলামায়ে দেওবন্দের কীর্তি বিশ্বময়

উলামায়ে দেওবন্দের কীর্তি বিশ্বময়

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

দারুল উলুম দেওবন্দের খেদমত ও অবদান বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়ে আছে। উলামায়ে দেওবন্দের কীর্তি সর্বময়। এ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা নেই যেখানে দেওবন্দী আলেমদের পদচিহ্ন পড়েনি। সূর্যদয়ের দেশ থেকে নিয়ে সূর্যাস্তের কিনারা পর্যন্ত সর্বত্র দেওবন্দী ওলামা- মাশায়েখদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। দেওবন্দী মাদরাসা, খানকা, চেতনা ও আদর্শ উজ্জীবীত করেছে পৃথিবীর নান জনগোষ্ঠীর মানুষদেরকে।

এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়াসহ প্রতি মহাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেওবন্দী আলেম। ইউরোপ- আমেরিকার মত আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে এখন দ্বীনি পরিবেশ বিরাজ করছে তাদের হাত ধরে।

দেওবন্দী আলেমদের মেহনত-মুজাহাদার বদৌলতে সেসব জায়গাগুলোয় এখন ধর্ম চর্চা অবারিত হয়েছে। কোথাও কোথাও মনে হয় আমি বুঝি ইউরোপে নেই, বরং ভারতবর্ষের কোন দ্বীনি এলাকায় হেঁটে বেড়াচ্ছি। মোটকথা, ওলামায়ে দেওবন্দের কল্যাণে আজ পুরো পৃথিবী জুড়ে বইছে ইসলামের এক শীতল শান্ত সমিরণ।

আল্লামা তাকি উসমানী দা. বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন ইসলামী স্কলার ও পরিব্রাজক। তিনি তাঁর ‘সফর দর সফর’ গ্রন্হে লিখেছেন, তিনি পৃথিবীর সূর্যদয়ের দেশ থেকে নিয়ে একেবারে সূর্যাস্তের দেশেও সফর করেছেন। অনেক দুর্গম এলাকাতেও পা পড়েছে তাঁর। তিনি দেখেছেন সব জায়গাতে ওলামায়ে দেওবন্দের সুকর্ম বিস্তৃত। এমন কোন জায়গা নেই সেখানে দেওবন্দী আলেমদের পদচারণা ঘটেনি।

শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী ( রহ.) এর জানশীন ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী ( রহ.) ইউরোপের দেশসমূহে এক বিশাল দ্বীনি মিশনের জাগরণ তুলেছিলেন। তার মেহনতের ফলে ইউরোপের বুকে বহু দ্বীনি স্কুল – মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, আমি পৃথিবীর একদম পূর্বপ্রান্তে গিয়েছি, যেখানে চারিদিকে সমুদ্রের অথৈ জলরাশি আর মাঝে একটা নিঝুম দ্বীপ। সেই দ্বীপের মাঝেও গড়ে ওঠেছে একড়ি দেওবন্দী মাদরাসা। যেখানে নিয়মিত বুখারী শরীফসহ সিহা সিত্তাহ কিতাব সমূহের পাঠ দেওয়া হচ্ছে।

শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী ( রহ.) এর জানশীন ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী ( রহ.) ইউরোপের দেশসমূহে এক বিশাল দ্বীনি মিশনের জাগরণ তুলেছিলেন। তার মেহনতের ফলে ইউরোপের বুকে বহু দ্বীনি স্কুল – মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি মানুষকে উৎসাহিত করতেন সন্তানকে দ্বীনি মাদরাসা কিংবা ইসলামী স্কুলে পড়ানোর জন্য। ইউরোপে প্রাইভেট স্কুল – মাদরাসাতে সন্তানদের পড়াতে গেলে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়। যদিও সরকারিভাবে ফ্রি-তে ছেলেমেয়েদের পড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী এর বক্তব্য ছিল টাকা খরচ করে ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পড়াবে, প্রয়োজনে একবেলা খাবে আর অন্য বেলার আহারের পয়সা জমা করে রাখবে। যাতে ছেলেমেয়েদের দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে পড়ানো যায়।

এক সময়ে বুখারা-সমরকন্দ ইলম চর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল। যেখানকার ইলমের সৌরভ পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিশেষ করে ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিজিসহ হাজারো মুহাদ্দীস ও ফকীহগণের আলেমদের যেখানে ঘটেছিল।

এভাবে ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী দ্বীনি মিশন নিয়ে ইউরোপের পথে পথে ছুটে বেড়িয়েছেন। এই মেহনতের বদৌলতেই পুরো ইউরোপেজুড়ে এখন দ্বীনি ইলম ও আমলের সুবাতাস বইছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ দুনিয়ার রং-তামাশা থেকে ফিরে মহান রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। অন্যান্য মহাদেশ জুড়েও এমনই অবস্থা। সেখানেও দ্বীন- ইসলামের মশাল প্রজ্জলন করে যাচ্ছে দেওবন্দী ওলামা মাশায়েখগণ।

আমরা আরো অবাক হব, এক সময়ে বুখারা-সমরকন্দ ইলম চর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল। যেখানকার ইলমের সৌরভ পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিশেষ করে ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিজিসহ হাজারো মুহাদ্দীস ও ফকীহগণের, আলেমদের যেখানে প্রকাশ ঘটেছিল। সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলো, সেখানে গড়ে উঠেছে মাদারিস ও জামিয়া। যেখানে সিহা সিত্তাহসহ নানান ফান্নী কিতাবের পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। বড় মজার ব্যাপার হল,সে প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন দেওবন্দী আলেমদের লেখা কিতাবও পড়ানো হচ্ছে। যে বুখারা- সমরকন্দের ইলমের সৌরভে মোহিত বিশ্বময়। সেই ঐতিহাসিক জায়গাতে স্হান করে নিয়েছে ওলামায়ে দেওবন্দের লিখনী।

সম্প্রতি বুখারা-সমরকন্দে সফর করছেন ওলামায়ে দেওবন্দের একটি তরুণ দল। যারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন মাদরাসায় দরস দিয়ে থাকেন। তারা ইমাম বুখারী ( রহ) এর মাকবারার পাশে সুবিশাল জামেয়া পরিদর্শন করেছেন। সেই জামেয়াতে তারা দেখতে পেলেন, দেওবন্দী আলেমদের লিখিত কিতাব পড়ানো হচ্ছে।

বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্হ ‘ফয়জুল বারী’ মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রচিত। যেটা এখন বিশ্ব্যব্যাপি প্রসিদ্ধ। সেই সুবিখ্যাত কিতাবটি এখন বুখারার জামিআ ইসমাঈল বুখারীর পাঠসূচিতে শোভা পাচ্ছে। গর্বে বুকটা ভরে যায় আমাদের। ওলামায়ে দেওবন্দের এ কীর্তি পুরো বিশ্ব মুসলিমের জন্য সুখকর।

আল্লাহ উলামায়ে দেওবন্দের সকল খেদমতকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক, শিক্ষক ও কলামিস্ট

Related Articles