পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রাম নগরীতে দুই দিনের টানা বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারে নিম্নাঞ্চলগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে। ফলে চট্টগ্রাম নগরীর কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে গিয়ে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট,বাদুরতলা, চকবাজার, চাক্তাই-আসাদগঞ্জ, ইকবাল রোড়, পাঁচলাইশ মুহাম্মদপুর, কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকা, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, শুলকবহর, ডিসি রোড়, রিয়াজ উদ্দিন বাজারসহ নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে আছে। এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এলাকাগুলোর প্রায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আগ্রাবাদের সিডিএ এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে বিশাল একটি অংশ। এলাকাবাসী জানায়, পানি মাড়িয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। বেড়িবাঁধ উচুঁ ও লোকালয়ে পানি না ঢুকতে স্থায়ী সমাধান করা না গেলে বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়বে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি।
চট্টগ্রাম নগরে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় বায়েজিদ লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্য দিকে নিম্নচাপের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চারটি নৌযান তীরে উঠে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উপকূলে এসব নৌযান আটকে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমার আওতাধীন আনোয়ারা উপকূলে দু’টি নৌযান আটকা পড়েছে। নৌযান দু’টি হলো- মারমেইড-৩ ও নাভিমার-৩। এর মধ্যে মারমেইড-৩ হলো বার্জ, নাভিমার-৩ টাগবোটের সাহায্যে এটি আনা-নেয়া করা হয়।
এ দিকে বৃহস্পতিবার রাতে একইভাবে ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলে দু’টি জাহাজ আটকা পড়েছে। জাহাজ দু’টি হলো- এমভি আল-হেরেম ও বিএলপিজি সুফিয়া।
চট্টগ্রামে বৈরী আবহাওয়ায় নামতে পারেনি বিমান, ফিরে গেল ঢাকায়
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে পারেনি বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি ফ্লাইট। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণের চেষ্টা করলেও আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় পুনরায় ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই রুটের ফ্লাইটটি যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম আসলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়। রাত কাটিয়ে ফ্লাইটটি শুক্রবার ভোর ৪টা ১৬ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। পরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে সকাল ৫টা ৩১ মিনিটে দুবাইর উদ্দেশে যাত্রা করে।
এ ঘটনায় যাত্রীদের সাময়িক দুর্ভোগ হলেও, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর সূত্র।


