পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দীর্ঘ ৪০ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে মুসলিম মুসল্লিদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত এই ধর্মীয় স্থানটি উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত ফিলিস্তিনি প্রবেশ করেন।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে আল-হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণের গেট খুলে দেওয়ার পর মুসল্লিরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মসজিদে প্রবেশ করেন। অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি ফেলতে এবং প্রাঙ্গণের চত্বরে শুকরিয়া সিজদা আদায় করতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরুর দিন থেকে মসজিদে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করেছিল। এই সময়ে শুধু মসজিদের কর্মচারী এবং জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ কর্মকর্তাদের নামায পড়ার অনুমতি ছিল। অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের ছোট মসজিদ বা রাস্তায় নামায আদায় করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এ বছর আল-আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতর এর নামাযও আদায় করতে দেওয়া হয়নি, যা ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর নজিরবিহীন। আজ ফজরের জামাতে মুসল্লিদের দীর্ঘ লাইন প্রাঙ্গণে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
মসজিদটি বন্ধ থাকাকালীন গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিতর্কিতভাবে প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছিলেন, যা ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছিল। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রশাসন খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান চার্চ অব দ্য হোলি সেপুলকারও বন্ধ করে দিয়েছিল।
বর্তমানে মসজিদ উন্মুক্ত হওয়ায় জেরুজালেম ও আশপাশের এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দলে দলে সেখানে ছুটে আসছেন। যদিও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারা এবং প্রবেশপথে তল্লাশি অব্যাহত আছে।
পবিত্র আল-আকসার পুনর্মুক্তকরণ ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, যাতে ভবিষ্যতে ইবাদত পালনে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।


