পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়াতে সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো ব্যাংক তার উদ্বৃত্ত টাকা জমা রাখলে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ মুনাফা পাবে। আগে যেখানে পাওয়া যেত সাড়ে ৮ শতাংশ। এ হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা জমা রাখার সুদহার কমানো হয়েছে ৫০ বেসিস পয়েন্ট।
জানা গেছে, কোনো ব্যাংকের কাছে বাড়তি অর্থ থাকলে সাধারণত সে অর্থ আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার (কলমানি মার্কেট) অর্থাৎ সঙ্কটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ধার দেয়। কিন্তু বাজারে টাকার চাহিদা কম থাকলে এবং কাক্সিক্ষত হারে মুনাফা না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অর্থ জমা রাখে। বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্ধারিত হারে মুনাফা দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর টাকা জমা রাখার এ পদ্ধতিকে ব্যাংকিং ভাষায় রিভার্স রেপো বলে। অপর দিকে বাজারে টাকার চাহিদা বেশি থাকলে এবং বাজার থেকে নিজেদের মধ্যে টাকা ধার নেয়ার হার অর্থাৎ কলমানি হার বেশি হলে বিনিয়োগ ব্যয় কমাতে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ধার নেয়। এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় রেপো বলে। সাধারণত রেপোর সুদহার বেশি থাকে রিভার্স রেপোর তুলনায়। যেখানে রিভার্স রেপোর হার ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ, সেখানে রেপোর হার রয়েছে ১০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের দখলে থাকা ৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেয়া হয়। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক বলা চলে পুরোপুরিই ফাঁপা করে ফেলা হয়েছে। এসব ব্যাংকের কোনো কোনোটি থেকে সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে। ওইসব ঋণ এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর বাইরে ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক থেকেও বিধিবহির্ভূতভাবে নগদ অর্থ বের করে নিয়েছিলেন ওইসব ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালকরা। ৫ আগস্টের পর এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়। এতেই ব্যাংকগুলোর প্রকৃত চিত্র বের হতে থাকে। আর এ কারণেই আস্থার সঙ্কটে পড়ে যায় ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংককে এতটাই দুর্বল করে ফেলা হয়েছে যে, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে পারছে না। গত ১৫ বছরের লুটপাটের চিত্র বের হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের তাদের কষ্টের অর্থ উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায়। যার ফলে এসব ব্যাংকগুলোর সঙ্কট আরো বেড়ে যায়। তবে লুটপাট হওয়া ব্যাংকগুলোর আমানত চলে যায় কিছু ভালো ব্যাংকের কাছে।
এক দিকে কিছু ব্যাংকের টাকার সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করে, অপর দিকে কিছু ব্যাংকের টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। ব্যাংকগুলোর এ উদ্বৃত্ত অর্থ কলমানি মার্কেটে ধার না দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা রাখার প্রবণতা বেড়ে যায়। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকগুলো টাকা জমা রাখতে বেশি নিরাপদ মনে করে। এ বিষয়ে একটি ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ধার দিলে তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলো ধারের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রাখাই বেশি নিরাপদ মনে করছে।
এটাকে নিরুৎসাহিত করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রিভার্স রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে। তবে রেপো ও বিশেষ তহবিল জোগানের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, মুদ্রানীতি কাঠামোর সুদহারের করিডোরের আওতায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার (কলমানি মার্কেট) কার্যক্রম আরো গতিশীলকরণ এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার লক্ষ্যে নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮.৫০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৮ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হলো। এ ছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) বিদ্যমান ১১.৫ শতাংশ এবং ওভারনাইট রেপো বা নীতি সুদহার বিদ্যমান ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। আজ ১৬ জুলাই থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।


