পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানের বিরুদ্ধে ফের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ১২৬ ডলার ছাড়িয়েছে। যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সেই সঙ্গে তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।
নতুন এই প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয় এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার আশায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলেও জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। বলা হয়েছে, এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরান সরকারকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে এবং আরও নমনীয়তা দেখাতে চাপ দেবে।
এ খবর প্রকাশ হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। সিএনবিসির প্রতিবেদন মতে, জুন ডেলিভারির জন্য আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দাম ৬.৮৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬.১০ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডাব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০.২৪ ডলার দাঁড়িয়েছে। মূলত যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের দাম ওঠানামা করছে। আর প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালীর নৌ অবরোধ।
ইরান যুদ্ধের কারণে কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে আছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান তাদের ঘরের উঠানের এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে।
মার্চ মাসের শুরুর দিকেই তেহরান জানিয়ে দেয়, প্রণালীর কাছে এলে যেকোনো জাহাজে হামলা করা হতে পারে। এরপর চলতি মাসের শুরু দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং এরপর শান্তি আলোচনা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। জানায়, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজ তারা আটকে দেবে বা ফিরিয়ে দেবে।
সাম্প্রতিক ওঠানামা সত্ত্বেও সংঘাতের আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও অনেক বেশি। ১৭ এপ্রিল ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নেমেছিল। তবে গত ১২ দিনে অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেলের দাম আবার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।


