যে পাঁচ অভ্যাসের কারণে নষ্ট হতে পারে কিডনি

যে পাঁচ অভ্যাসের কারণে নষ্ট হতে পারে কিডনি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইদানীং কিডনিতে পাথর ও পানি জমে যাওয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। দৈনন্দিন জীবনের অনিয়ম কিডনির অসুখ ডেকে আনে। ক্রমাগত বাইরের খাবার খাওয়া, পানি কম খাওয়া, তেল-মশলাজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাসে কিডনি খারাপ হতে থাকে।

দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে কিডনি ভালো না রাখলে চলবে না। এই অঙ্গের ভালো-মন্দের উপর নির্ভর করে সার্বিক সুস্থতা। কিডনি ভালো রাখতে নিজেকে কিছু নিয়মে বাঁধতেই হবে। কারণ, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই আলাদা করে নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ পান না। তাতেই বাড়ে বিপত্তি।

তাহলে জেনে নিন, কোন কোন অভ্যাস থেকে দূরে থাকলেই ভালো থাকবে আপনার কিডনি।

পানি কম খাওয়া

কিডনি সমস্যার এটি প্রধান কারণ। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খান। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন তিন-চার লিটার পানির প্রয়োজন। তাই শরীরের প্রয়োজন কতটুকু, সেই পরামর্শ নিয়ে রাখুন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের কাছ থেকে। সেই অনুপাতে পানি খান।

শরীরে কোনো ক্রনিক অসুখ থাকলে পানি খাওয়ার বিষয় নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। সেক্ষেত্রে পানি বেশি খেলে কিন্তু কিডনির সমস্যা বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে পানি খাওয়ার পরিমাণটা জেনে নিতে হবে অবশ্যই।

প্রস্রাব চেপে রাখা

কিডনিতে সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো প্রস্রাব চেপে রাখা। সাধারণত রাস্তাঘাটে বা অনেক সময়ে বাড়িতে থাকলেও কাজের চাপে অনেকে প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখেন। এই অভ্যাসের কারণে মূত্রনালিতে চাপ পড়ে। তাতেই ক্ষতি হয় কিডনির। বেশিক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখার ফলে কিডনির শারীরবৃত্তীয় কাজ সারতে সমস্যা হয় ও দীর্ঘ সময় ধরে টক্সিন ধরে রাখায় শরীরে সংক্রমণ ঘটে।

ডায়াবেটিসকে গুরুত্ব না দেওয়া

উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস সরাসরি কিডনির ক্ষতি করে। তাই সব সময়ে চেষ্টা করুন ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। রক্তে শর্করার পরিমাণ কোনো ভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। কিডনি ভালো রাখতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ প্রয়োজন। এর জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি, শরীরচর্চা আর খাবারে নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি।

ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস

মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকে অনেকেরই। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ধরনের ওষুধ কিন্তু কিডনির নানা সমস্যা তৈরি করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভাবেই কোনো রকম অ্যান্টিবায়োটিক বা বেদনানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

ওজন বেশি থাকা

ওজন বেশি হয়ে গেলেও কিন্তু কিডনির উপর চাপ পড়ে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি। প্রতিদিন ডায়েট ও শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস শুরু করতে হবে। নইলে কিন্তু বিপদের শেষ থাকবে না।

Related Articles