পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যেকোনো মূল্যে অর্থের অপচয় বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে নিশ্চিত করতে হবে অর্থের যথাযথ ব্যবহার। সেই অর্থ যেখান থেকেই আসুক না কেন। বিদেশি ঋণ বা অনুদানের যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সময়মতো মূল্যস্ফীতির প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা হবে। জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। এটা অস্বীকার করে লাভ নেই। আর মেগা বা বড় প্রকল্পের অর্থ ছাড় করার আগে আলোচনা করতে হবে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসম্পৃক্ত প্রকল্পগুলোকে দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই তার প্রথম বৈঠক। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে বৈঠক করেন পরিকল্পনা কমিশনের নিজ দফতরে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সবার মতো বর্তমান সরকারও মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত। গ্রামে ছয় টাকার বেগুন ঢাকায় ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। কৃষক ১০ কিলোমিটার দূর থেকে ফসল নিয়ে বাজারে এলেও দাম পান না। শেষমেশ অল্প দামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে দেন। কিছু বন্ধু-বান্ধব রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, পরিবহনে টাকা তোলে, তাদের বলব দাঁড়িয়ে থাকবেন না। কেনাকাটার বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আগের কর্মকর্তা করে গেছেন, আমি জানি না, এসব বলা যাবে না। যিনি এখন দায়িত্বে আসবেন, তাকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বা এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্বলতা আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এ ক্ষেত্রে ধীরগতি থাকা চলবে না। গত অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল খুবই কম। সেটা ছিল বিশেষ সময়। এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। অনেকগুলো প্রকল্প নেয়া হবে, এরপর প্রকল্প পরিচালক পাওয়া যাবে না, এসব হবে না। এ ছাড়া একজন কর্মকর্তা চারটি প্রকল্পের পরিচালক হবে, তা আর হবে না।
এডিপির বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা অপ্রতুল। আবার কোনো কোনো খাতে যত বরাদ্দ দেয়া হয়, সেটা তারা ব্যয়ও করতে পারে না। এ ছাড়া সামাজিক ও শিক্ষা খাতে কম বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বা সবুজায়নে অনেক প্রকল্প এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে সবুজ না বাড়লেও বড় বড় ভবন হয়েছে। এসব বাস্তবভিত্তিক করতে হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক রাস্তা একবার সিটি করপোরেশন খোঁড়ে, আবার ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগ খোঁড়ে। এতে অর্থের অপচয় হয়, দুর্ভোগ বাড়ে মানুষের। দেখা যায়, একই বিষয়ে চারটি বিভাগ অর্থ ব্যয় করে। একই কাজ একাধিকবার করতে হয়। এসব বন্ধ করে কাজের মানোন্নয়ন করতে হবে।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবন-জীবিকার প্রকল্প চালু রাখা হবে। বড় বা মেগা প্রকল্পের অর্থছাড় বড় হয়, তাই এ বিষয়ে পরে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অনেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) চার প্রকল্পের দায়িত্বে। চারটি প্রকল্পে দায়িত্ব মানে চারটি গাড়ি। এটা চলবে না। আমি অ্যাসেস (মূল্যায়ন) করে দেবো। অনেকে কম টাকা ব্যয় করতে পারে না। ক্লাইমেট বিরাট ব্যাপার, বন্যা হয়, পরিবেশের নামে অনেক টাকা খরচ হয়। প্রকল্পে সমন্বয়হীনতা আছে, এটা দূর করতে হবে।
সংস্কারের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কার করা হবে। ব্যাংকিং খাত সংস্কারের বিষয়ে কিছু পরিকল্পনা আমার মাথায় আছে। এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তা করা হবে।


