পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আজ ১৮ সেপ্টেম্বর—হ্যাঁ, আজই সেই বিশেষ দিন যেদিন বাঁশ তার ‘ক্যারিয়ার হাইলাইটস’ দেখাতে মঞ্চে উঠে আসে। নাম তার বিশ্ব বাঁশ দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্যও কম যায় না—
“নেক্সট জেনারেশন ব্যাম্বো: সলিউশন, ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজাইন।”
শুনেই বোঝা যাচ্ছে, বাঁশও কিন্তু বসে নেই; ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম যুগে সে-ও চাইছে নেক্সট জেনারেশন টাইটেল পেতে!
বাঁশ দিবসের সূচনা
২০০৫ সালে বাঁশকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখে তৈরি হলো ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বো অর্গানাইজেশন। আর ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁশের জন্য বরাদ্দ হলো একটি দিন। (ভাবুন তো, বাঁশও আজকাল জন্মদিনের মতো “বিশেষ দিবস” পালন করে!)
এই প্রস্তাব রাখেন কামেশ সালাম নামের ভদ্রলোক—যিনি বুঝেছিলেন, বাঁশেরও ‘পাবলিক রিলেশনস’ দরকার।
বাঁশের ব্যবহারই এত বৈচিত্র্যময় যে, মনে হয়—“বাঁশ না থাকলে কেমন হতো আমাদের দিনকাল!”
আসবাবপত্রে: কাঠের বিকল্প, আবার পরিবেশবান্ধবও।
খাবারে: বাঁশ কোড়ল—শুনতে যতটা মজার, খেতে ততটাই স্বাস্থ্যসম্মত।
অর্থনীতিতে: গ্রামের ঘরে ঘরে বাঁশ মানে কর্মসংস্থান, আয়, আর হ্যাঁ—কখনো কখনো খেলার ছলে বাঁশ দিয়ে ‘গোলপোস্ট’ও!
পরিবেশে: বাঁশের গতি এমন যে মনে হয়, “মাটি পেলেই আমি দৌড় দেবো”—তাই কার্বন শোষণেও সে দারুণ।
বিশ্বের বাঁশ ভাণ্ডার
জাতিসংঘের FAO প্রতিবেদন বলছে—
চীনে আছে প্রায় ৫০০ প্রজাতির বাঁশ (বাঁশেরও আবার এত ভাইবোন!)
ব্রাজিলে আছে ২৩২ প্রজাতি।
আর আমাদের বাংলাদেশে আছে ৩৩ প্রজাতি—অষ্টম স্থানে। সংখ্যা কম হলেও, গুণে আমরা মোটেই পিছিয়ে নেই।
বাঁশের বার্তা
বাঁশ শুধু ঘরের বেড়া নয়, ভবিষ্যতেরও ভরসা। টেকসই স্থাপত্য, ডিজাইন, খাদ্য বা পরিবেশ—সব জায়গাতেই বাঁশ একেবারে সুপারস্টার ম্যাটেরিয়াল।
তাই এবারের বাঁশ দিবসের মূল শিক্ষা—
“যতই দুনিয়া আধুনিক হোক, বাঁশের সামনে সবাই একদিন বাঁশ-বন্ধু হবেই!”


