আরাফাতের প্রান্তর মুখরিত “লাব্বাইক” ধ্বনিতে: পবিত্র হজ আজ

আরাফাতের প্রান্তর মুখরিত “লাব্বাইক” ধ্বনিতে: পবিত্র হজ আজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আজ পবিত্র হজ। বিশাল আরাফাত ময়দান জুড়ে লাখো মুসলমানের মুখে একই ধ্বনি—
“লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…”
প্রায় ১৫ লাখ মুসলমান এ বছর হজ পালন করছেন, যাদের হৃদয়জুড়ে একই আবেগ—আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রয়াস।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে বুধবার মিনায় হাজিদের অবস্থানের মাধ্যমে। মিনায় তাঁবুতে রাতযাপন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা রওনা হন ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। ৯ জিলহজের এই দিনটিকে বলা হয় “ইয়াওমে আরাফা”—এটিই হজের মূল দিন।

আরাফাতে পৌঁছে হাজিরা শুনবেন হজের খুতবা। এবার খুতবা প্রদান করবেন মসজিদুল হারামের খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। খুতবাটি অনুবাদ করা হবে বাংলা সহ ২০টি ভাষায়। বাংলা অনুবাদ করবেন মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থী—ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ও নাজমুস সাকিব।

খুতবার পর হাজিরা একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করবেন। এরপর তাঁরা নিঃশব্দ কান্নায়, ইবাদতে, দোয়ায় আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের চেষ্টা করবেন।

আরাফার দিনের মাহাত্ম্য
১. দ্বীন পূর্ণতার ঘোষণা:
এই দিনেই সূরা মায়েদার ৩নং আয়াত নাজিল হয়, যাতে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আল্লাহ বলেন,
“আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম…”

২. সর্বোচ্চ গুনাহ মাফের দিন:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ এত অধিক সংখ্যক মানুষকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন।” (ইবনে হিব্বান)

৩. সব ঈমানদারদের জন্য মাফের ঘোষণা:
হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আরাফার দিন আল্লাহ এমনভাবে বান্দাদের ক্ষমা করেন, যার অন্তরে সামান্য ঈমান থাকলেই সে আল্লাহর ক্ষমা পায়।

আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যাত্রা
সূর্যাস্তের পর হাজীরা নামাজ না পড়ে রওনা হন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। এরপর ফজরের নামাজ আদায় করে পাথর সংগ্রহ করে তাঁরা মিনায় ফিরে যাবেন।

হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা
মিনায় ফিরে হাজিরা চারটি কাজ সম্পন্ন করবেন:

শয়তানের প্রতীকে পাথর নিক্ষেপ

কোরবানি প্রদান

মাথা মুণ্ডন বা চুল কাটানো

তাওয়াফে জিয়ারত

১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি শয়তানের প্রতীককে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

Related Articles