পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ সরবরাহ বাড়াতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারকে লেখা এক চিঠিতে এই আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।
ইসরাইলকে গাজায় ত্রাণ সহায়তা ও মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে এক মাস সময় দিয়েছেন তারা। তা না হলে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেয়া হবে কি না তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
গত রোববার (১৩ অক্টোবর) ওই চিঠি ইসরাইলে পাঠানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক সাংবাদিক মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই চিঠির বিবরণ পোস্ট করেন। এর মাধ্যমে গত বছর যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সহায়তা বন্ধের হুমকি দিলো বাইডেন প্রশাসন।
ইসরাইলের নিউজ ১২-এর এক সাংবাদিক প্রথম চিঠির বিষয়বস্তু এক্স-এ প্রকাশ করেন। দুটি সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানিয়েছে, ইসরাইল এখন বাইডেন প্রশাসনের চিঠিটি পর্যালোচনা করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এক ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইসরাইল বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে চিঠিতে উত্থাপিত উদ্বেগগুলো সমাধান করতে চাইছে।’
সম্প্রতি উত্তর গাজায় সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চলছে জবরদখল। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কিছু মানবিক সহায়তার ওপর নতুন যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম চালু করার পর থেকে খাদ্য সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বাণিজ্যিক সরবরাহও কমানো হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই চিঠি দিল। চিঠিতে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইসরাইলকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের মধ্যে ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সহায়তা সরবরাহ সীমিত করার মাধ্যমে ‘দুর্ভোগ বাড়ানো’ বন্ধ করতে হবে।


