পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসরাইলে ‘থাড’ নামের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থা পাঠানোর কথা স্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এরই মধ্যে দেশটিতে শক্তিশালী থাড মোতায়েনও করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ইসরাইলকে প্রথমবারের মতো হুঁশিয়ার করে মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র। বেঁধে দেয় ত্রিশ দিনের আল্টিমেটাম। গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা না দেয়ার আহবান জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, সোমবার (১৪ অক্টোবর) ইসরাইলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থা টার্মিনাল হাই এল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স, সংক্ষেপে ‘থাড’সহ বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক মিসাইল পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ‘থাড’ পরিচালনার জন্য দক্ষ ১০০ মার্কিন সেনাও পাঠানো হয়।
বাইডেন ইসরাইলকে এ অস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তার নির্দেশেই আইডিএফকে অস্ত্র ও সেনা সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, পহেলা অক্টোবর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে পেন্টাগন ও আইডিএফের যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। তার দাবি, মার্কিন নাগরিকদের জীবনরক্ষায় ইসরাইলের অস্ত্রভাণ্ডারকে তিনি শক্তিশালী করছেন।
এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে ইসরাইলকে আল্টিমেটাম, অন্যদিকে সামরিক সহায়তার পদক্ষেপ হোয়াইট হাউজের চরম দ্বিমুখিতার পরিচয় দিচ্ছে। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র মুখে যুদ্ধ বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা আরো দীর্ঘায়িত করতে চায়।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনে বাইডেন প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ বলেও মনে করেন তারা। বাইডেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অমান্যেরও অভিযোগ আনেন তারা। যদিও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধে জর্জরিত আরেক অঞ্চলে এমন অস্ত্র ও সেনা সহায়তাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন জো বাইডেন।
আলজাজিরা বলছে, ইসরাইলকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের আল্টিমেটামের মেয়াদকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর শেষ হবে। আবার নতুন করে সব নীতি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তখন ইসরাইল ছাড় পেয়ে যাবে বলে মনে করেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা।


