পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অন্য কোনো মতবাদ নয়, একমাত্র নবীজী সা. এর নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বলে উল্লেখ করেছেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন, শায়েখে চরমোনাই, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) খিলগাঁও চৌধুরীপাড়াস্থ ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি আয়োজিত সীরাত মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সকল মতবাদই ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে যত মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে তার একটিও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। সাম্যের কথা বলে যতো দার্শনিক এসেছেন একজনও সাম্য কায়েম করতে পারেননি। কালমার্কস থেকে লেনিন, সমাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র কেউ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
“অথচ নবীজীর আদর্শ এমন ছিলো যে, তাঁর মুখেও সাম্যের কথা ছিলো এবং কর্মেও সাম্যের বাস্তবায়ন ছিলো। তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে এমনভাবে বসতেন যে, কোনো বিদেশী মেহমান আসলে চিনতেই পারতো না কে সাহাবী কে নবী?” —যোগ করেন তিনি।
একমাত্র ইসলামই সাম্য কায়েম করতে পেরেছে জানিয়ে শায়েখে চরমোনাই বলেন, ইসলামের বাইরে গোলাম এবং মালিকের সাম্যতায় বিশ্বাসী দ্বিতীয় কোনো নজীর নেই। এটা কেবল ইসলামের মধ্যেই আছে। পৃথিবীতে আর কোনো মতবাদ নাই যেখানে খলীফা ও গোলামের এতো সুসম্পর্ক স্থাপন হয়েছে।
গণতন্ত্র মানেই হারাম নয় মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই সিনিয়র নায়েবে আমীর বলেন, গণতন্ত্র মানেই হারাম বা কুফুরী নয়।, গণতন্ত্রের যেসব আইন ইসলামী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় সেগুলো হারাম হবে না। আর যেসব আইন আল্লাহর আইন বা ইসলামী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, সেগুলো হারাম বা কুফুরি হবে। গণতন্ত্র মানেই হারাম হলে যমীনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য দলগুলোর মাঝে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে অন্য সব দল ঘোষণা দেয়— নির্বাচনে বিজিত হলে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে,: ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম করার কথা বলে, সেখানে ইসলামী আন্দোলন বিজিত হলে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গিকার করে। এটাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্য দলগুলোর মাঝে পার্থক্য।
‘কোন জিনিসকে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাপকাঠি বলে ধরা যাবে’ এমন প্রশ্ন রেখে এই চিন্তাবিদ বলেন, আমি অনেকের সাথে কথা বলেছি। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা আছে। আমি তাদের কিছু বলিনি। আমি আপনাদের একটি প্রশ্ন করতে চাই, কোন আইনের ভিত্তিতে দেশ চালালে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে, এটা নির্ধারণ করবে কে? সমাজতন্ত্র নির্ধারণ করবে? কমিউনিজম? ড্যামোক্রেসি? সেক্যুলারিজম? যদি মদখোরকে আইন করতে দেয়া হয় তবে সে মদকে সহজলভ্য করে দেবে। যদি গাঁজাখোরকে আইন করতে দেয়া হয় তবে সে গাঁজাকে উন্মুক্ত করে দেবে। যদি দুর্নীতিবাজকে আইন করতে দেয়া হয় তবে সে দুর্নীতি করা সহজ করে দেবে। সুতরাং এসব মানুষদের কাউকে আইন প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দেয়া হলে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না।
মানুষের চিন্তা আদর্শ কখনো কোনো কিছুর মাপকাঠি হতে পারে না জানিয়ে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, মানুষের চিন্তা স্থির না। সকালে একরকম থাকে বিকালে আরেক রকম হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের চিন্তা মাপকাঠি হতে পারে না। মাপকাঠি হতে হবে কোরআন ও হাদীস, যা বাড়েও না, কমেও না। কোরআন ও হাদীসের আইন দিয়ে যদি মানুষকে চালানো হয়, তবে মানুষ শান্তিতে থাকবে।
একমাত্র নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নীতি ও আদর্শের মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন— দুনিয়ার সকল মতবাদ ও বিশ্বাসের উপর তাঁর বিশ্বাস ও মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে। দুনিয়ার সব মতবাদ বাদ। একমাত্র নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে যদি দুনিয়া চলে তাহলে মানুষ দুনিয়াতেও শান্তি পাবে, আখিরাতেও মুক্তি পাবে।


