এক দফায় যাচ্ছে কোটা বিরোধী আন্দোলন

এক দফায় যাচ্ছে কোটা বিরোধী আন্দোলন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একদফায় রূপ নিচ্ছে কোটাবিরোধী আন্দোলন। যদিও একদিকে সরকারের আশ্বাস অপর দিকে পুলিশি মামলা ও হামলা চলছে। গত দু’দিন কিছুটা স্থিমিত থাকার পর আজ রোববার থেকে আবারো সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন। ইতোমধ্যে গতকাল শনিবার আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম তার ফেজবুক পেইজে বেশ কিছু দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন। সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ কোটা বাতিল করে এক দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগে এই মামলা করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো: আরশাদ হোসেন। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ছাড়া, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তারা বাদি হয়ে একটি মামলা হয়েছে।

অপরদিকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষিতে গতকাল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। কোটার যৌক্তিক সংস্কার করে সংসদে আইন পাসের লক্ষ্যে জরুরি অধিবেশন আহ্বান ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কর্তৃক অজ্ঞাতনামা মিথ্যামামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা ও রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করবে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ সময় দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে নিজ নিজ প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া, তাদের ক্লাস ধর্মঘটও চলমান থাকবে বলে জানান তিনি ।

কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আজ রোববার বেলা ১১টায় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে এই গণপদযাত্রা শুরু হবে। গণপদযাত্রাটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বরাবর যাবে। এরপর রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এই গণপদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জবি, ঢাবি অধিভুক্ত কলেজ, শেরে বাংলা কলেজসহ ঢাকার সব প্রতিষ্ঠানকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিকভাবে কোনো সমাধানে না গিয়ে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করার পাঁয়তারা করছে। আমরা বরাবর সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি, তারা আদালত দেখিয়েছে। ১১ জুলাই আদালতে তাদের রায়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা সবসময় যৌক্তিকভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছি। সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও অংশীজনদের সমন্বয় করে কমিশন গঠনপূর্বক গবেষণা, পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা সংস্কার করতে হবে। যৌক্তিক মাত্রায় কোটা নির্ধারণ করে সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা সমস্যা চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। দাবি আদায় না হলে শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর গণআন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি ।

কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানাবিধ তৎপরতা চালাচ্ছে। এমনকি ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন আমাদের আন্দোলনকে ভণ্ডুল করার জন্য ভাড়াটে গুন্ডা এনেছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছে। সরকারের উচিত ছিল তাদের পাশে থেকে কোটার যৌক্তিক সমাধান করা। সেটি না করে তারা আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক তকমা লাগানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের গুণ্ডারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করেছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চলাকালে কোনো ধরনের সহিংস মনোভাব দেখায়নি। আজ শাহবাগ থানায় পুলিশ অজ্ঞাতনামা মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে ওখানকার এক পুলিশ স্পষ্ট করেছে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের হামলা করেনি। আমাদের আন্দোলনকে ঘিরে বৃহৎ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। প্রশাসন, সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক মানবধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা হলে তারা যেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক বলেন, শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবি আদায় রাস্তায় এসেছে। তাদের আন্দোলনে পুলিশ দিয়ে হামলা করা হয়েছে। হামলায় নারী শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেউই রেহাই পায়নি। বর্তমানে কোটাসংস্কার আন্দোলনের মতো শান্তিপূর্ণ কোনো আন্দোলন বাংলাদেশে আমরা দেখিনি। সে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে একদলকে কুচক্রী গোষ্ঠী। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, কোটাসংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই তাদের দাবিকে সাধুবাদ জানিয়ে পাশে ছিল । সরকার তাদের আশ্বস্ত করেছে। আমরা বলতে চাই, শিক্ষকরা কর্মবিরতি উঠিয়ে নিলেই শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরবে না। আমরা আশা রাখি, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে পাশে থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রমাণ করবে। সেই সাথে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবির আন্দোলনে কোনো মহলের চক্রান্তের পাঁয়তারা না করার আহ্বান জানান।

জবির সমন্বয়ক কমিটি গঠন

জবি সংবাদদাতা জানান, কোটা সংস্কার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) তিন সদস্যের নেতৃত্বে সমন্বয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়াও কমিটিতে রাখা হয়েছে ১৪ জন সদস্য। গতকাল এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আছেন মেহেরুন্নেসা নিদ্রা (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ)। সহসমন্বয়ক করা হয়েছে মো: মারফুল ইসলাম ও ইভান তাহসীব। এ ছাড়াও সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন আরো ১৪ সদস্য।

Related Articles