এখনও খোঁজ মেলেনি ছোট্ট রাইসার

এখনও খোঁজ মেলেনি ছোট্ট রাইসার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার একদিন পরেও খোঁজ মেলেনি ওই প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা মনির। মেয়েটির পরিবার ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজে ফিরছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সন্ধান পায়নি তারা।

চাচা এমদাদুলের চোখে অশ্রু, হাতে ভাতিজির ছবি

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রাইসাকে খুঁজতে আসেন তার চাচা এমদাদুল হক। হাসপাতালের মূল ফটকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মোবাইল ফোনে রাইসার ছবি দেখিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার ভাতিজি রাইসা মনিকে খুঁজে পাচ্ছি না। ও মাইলস্টোন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সোমবার স্কুলে গিয়েছিল, তারপর থেকেই নিখোঁজ। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবার স্কুলে যায়, কিন্তু তাকে খুঁজে পায়নি। এখন আমরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছি। মেয়েটা কোথায় গেল, আদৌ বেঁচে আছে কিনা জানি না।”

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা: নিহত ২৭, আহত ৭৮

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার কিছু পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় স্কুল ভবনে এবং বিমানটিতে।
ভবনের ওই অংশে তখন বহু শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল, যারা ছুটি শেষে ক্লাসরুম বা কোচিং কক্ষে অবস্থান করছিল। দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও হেলিকপ্টার মোতায়েন

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবিও উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শেষ খবর: ২৭ জন নিহত, ৭৮ জন চিকিৎসাধীন

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৭৮ জন। নিখোঁজ রাইসাসহ আরও কেউ ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন কিনা, সে আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে এখন উদ্বেগ, কান্না ও অনিশ্চয়তা।

এক শিশুর সন্ধান যেন গোটা জাতির আর্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে
রাইসার মতো আরও অনেক শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষক এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন। তবে একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর এমন অদৃশ্য হয়ে যাওয়া যেন পুরো ট্র্যাজেডিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
এই নিখোঁজ মেয়েটির জন্য শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জাতি প্রার্থনা করছে— “আল্লাহর রহমতে রাইসা যেন ফিরে আসে, সুস্থভাবে।”

Related Articles