পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ব্রিটেনের জাতীয় সংসদে বর্তমানে প্রতিনিধিত্ব করছেন চার বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রাজনীতিক। দেশটির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই চারজন আবারও ‘নিশ্চিত বিজয়ের’ অপেক্ষায় রয়েছেন। আর দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনের সব নির্বাচনী জরিপে বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টি আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার দৌড়ে এগিয়ে। ‘যদি’, ‘কিন্তু’ থাকলেও; এবার ব্রিটিশ ক্যাবিনেটে অন্তত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতরা জায়গা করে নিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে। এমনকি প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে দলের মধ্যেও।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত চারজন। ঘটনাক্রমে চারজনই নারী এবং বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টির সদস্য। জরিপ এবং জনশ্রুতি অনুযায়ী, লেবার পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে, সেই সাথে এই চারজন যদি পুনর্নির্বাচিত হন, তাহলে এবারই কাটতে পারে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের আক্ষেপ। প্রথমবারের মতো ব্রিটেনের ক্যাবিনেটে জায়গা পেতে পারেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কেউ। এই লড়াইয়ে চারবারের এমপি রুশনারা আলী ও তিনবারের এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকের নাম লেবার পার্টির মধ্যে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো ও পপলার অ্যান্ড লাইমহাউজ আসনে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত হলেই এমপি হওয়া অনেকটা নিশ্চিত। লেবারের পূর্ব লন্ডনের নিরাপদ ও নিশ্চিত এই দু’টি আসনের একটিতে গত চার নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসছেন রুশনারা আলী। সিলেটের বিশ্বনাথের ভুরকি গ্রামে জন্ম নেয়া ৪৯ বছর বয়সী রুশনারা এবারও এ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি মা-বাবার সাথে শৈশবেই লন্ডনে এসেছিলেন।
পূর্ব লন্ডনের অপর আসনটিতে গতবার নানা কাঠখড় পুড়িয়ে স্থানীয় লেবার পার্টির বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের বিরোধিতার মুখেও মনোনয়ন ও নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ী হন আফসানা বেগম। গত নির্বাচনে কনজারভেটিভ প্রার্থী শিউন ওককে প্রায় ২৯ হাজার ভোটে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন লেবার পার্টির প্রার্থী আফসানা।
৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ রাজনীতিকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসের শ্যাডওয়েলে। বাংলাদেশে তার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। আফসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনেও লেবার পার্টির প্রার্থী তালিকার শর্ট লিস্টেড প্রার্থী তিনি। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত চার এমপির মধ্যে আফসানাই বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সভা সমাবেশে সবচেয়ে বেশি সময় দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন রেহানার কন্যা টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে টানা তিনবারের এমপি। ৪১ বছর বয়সী টিউলিপকে লেবার পার্টির ভেতরে নতুন প্রজন্মের তুমুল সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। লেবার পার্টির নিরাপদ বা সেফ সিট নয় এমন আসনে ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রথমবার লেবারের মনোনয়ন পেয়েই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে চমক সৃষ্টি করেন টিউলিপ। দু’বার লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া টিউলিপ আসন্ন নির্বাচনে জিতে এলে, আর নিজের দল লেবার পার্টি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায় তাকেও দেখা যেতে পারে। লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল আসনে লেবার পার্টির মনোনয়নে টানা তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হন ড. রূপা হক।
পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ৫২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশী কন্যা লন্ডনের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পড়াতেন। কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই কলামিস্ট ও লেখক।
বাংলাদেশ থেকে আসা মোহাম্মদ হক ও রওশন আরা হক দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে সবার বড় রূপা হক। তার মা-বাবা ১৯৭০ সালে ব্রিটেনে আসেন। তার বাবার বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়। খুব সাদাসিধা চলাফেরা ও বিনয়ী আচরণের জন্য নিজ নির্বাচনী এলাকার ভেতরে ও বাইরে রূপা হক সমানভাবে জনপ্রিয়। এবারও নিজ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন তিনি।


