পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ৬ নভেম্বর শিশুদের সুরক্ষা ও দূষণ রোধে অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার ভারতের দিল্লিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে দূষণ প্রতিরোধে দেওয়া হয়েছে একাধিক নির্দেশনা।
শীত মৌসুম শুরুর আগেই ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে পড়ছে নয়াদিল্লি। প্রতিদিনই বাতাসের মানের অবনতি এবং তা ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজ্য সরকার সব প্রাইমারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শুক্রবার থেকেই স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলবে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশি মারলেনা সিং বলেছেন, “শহরটিকে ঘিরে থাকা ঘন ধোঁয়াশার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস অনলাইনে চলবে।”
মূলত তাপমাত্রা হ্রাস, ধোঁয়া, ধূলিকণা, বাতাসের কম গতি, যানবাহন থেকে ধোঁয়া নির্গমন এবং ফসলের খড় পোড়ানোর কারণে শীতকালে দিল্লি এবং উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো প্রতি বছর ধোঁয়াশার সম্মুখীন হয়ে থাকে।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, দিল্লি এবং আশপাশের শহরগুলো ব্যাপক মাত্রায় দূষণের কবলে পড়েছে যেটাকে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও দিল্লির বাতাসে সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ৫০ গুণেরও বেশি ছিল।
এদিকে শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষে দেখা যায় পাকিস্তানের লাহোরকে। শহরটির স্কোর বর্তমানে ৭৮০, যা বিপদজনক মাত্রা নির্দেশ করে।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বাতাসের মান সূচকে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের দিল্লির স্কোর দেখা যাচ্ছে ৭৪৯।
তালিকায় এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। রাজধানী শহরটির স্কোর ২৪৫, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। চতুর্থ স্থানের রয়েছে পাকিস্তানের করাচি, স্কোর ২০৩। পঞ্চম ভারতের কলকাতা, স্কোর ১৮১; ষষ্ঠ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, স্কোর ১৭১; সপ্তম চীনের উহান, স্কোর ১৭০; অষ্টম নেপালের কাঠমান্ডু, স্কোর ১৬৫; নবম ভিয়েতনামের হ্যানয়, স্কোর ১৬৫; দশম ভারতের মুম্বাই, স্কোর ১৬৭।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
একইভাবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপদজনক’ বলে বিবেচিত হয়।


