কক্সবাজারে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯

কক্সবাজারে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের অলিগলিসহ হোটেল-মোটেল জোন ডুবে গেছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টি কম হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফলে কক্সবাজার শহর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার সড়ক-উপসড়কে ক্ষতির চিহ্ন ভেসে উঠছে।

এদিকে, শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে শহরের সমিতিপাড়া সমুদ্রপয়েন্ট থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহটি জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসে। এ নিয়ে গত তিন দিনে পাহাড়ধস ও ট্রলারডুবিতে রোহিঙ্গাসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, “শুক্রবারের তুলনায় শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। তবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকা, বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সাগরে এখনও ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের জলাবদ্ধ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নত হয়েছে। পানি নেমে গেছে পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সব সড়ক, সৈকত সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে।

এছাড়াও কক্সবাজার জেলার সদর, রামু, উখিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশত গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পানি শনিবার থেকে নামতে শুরু করেছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন। তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টির কারণে এই ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শনিবার থেকে পানি কমে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। সম্পূর্ণ পানি নেমে গেলে নিরূপণ করা সম্ভব হবে। তবে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে ৩০০ পরিবার ছিল। পানি কমে যাওয়ায় শনিবার সকালে তারা বাড়ি ফিরেছেন।”

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles