কবে নাগাদ নির্বাচন এখনো নিশ্চিত নয় সরকার : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

কবে নাগাদ নির্বাচন এখনো নিশ্চিত নয় সরকার : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্রিটেনের আগ্রহ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে কীভাবে সহায়তা করতে পারে জানতে চেয়েছে ব্রিটেন। আমি জানিয়েছি, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরে যেতে চায়। তবে কবে নাগাদ নির্বাচন করা সম্ভব হবে, সরকার তা এখনো নিশ্চিত নয়।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটেনের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়ে সরে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য। এখন যেটুকু সময় লাগে। আমরা স্পষ্টভাবে জানি না কবে নাগাদ নির্বাচন দেয়া সম্ভব হবে। কারণ কতগুলো কমিশন কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন পেলে আমরা বুঝতে পারব কত তাড়াতাড়ি আমরা এ কাজটা করতে সক্ষম হব। আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ঐক্য ত্বরান্বিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিটেন আশা করছে, কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে রূপকল্প তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের জনগণকে ব্রিটেন পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে সহায়তা করার চেষ্টা করবে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে কি না প্রশ্ন করা হলে ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই এবং আমরা আশা করছি, কীভাবে এসব ঘটবে, সে বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন অধ্যাপক ইউনূস।
ওয়েস্ট বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শান্তি ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব উদ্দেশ্য সাধনে বর্তমান সরকারের প্রতি ব্রিটেনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে আমরা সহযোগিতা করতে চাই।

ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সাথে আমাদের খুব শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গঠন করতে চাই। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। দুই দেশ অর্থনীতি ও বাণিজ্য থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, অভিবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন পর্যন্ত একসাথে অনেক কাজ করেছে। এ কাজগুলো অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতার পর বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের একটি পথ পাওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে ওয়েস্ট বলেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে ব্রিটেন কীভাবে সর্বোত্তম সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে আমি ঢাকায় এসেছি।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শরণার্থীদের জন্য উপযুক্ত আশ্রয় নির্মাণ এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্রিটেন অতিরিক্ত এক কোটি পাউন্ড তহবিল ঘোষণা করেছে।
অবৈধ অভিবাসন : অবৈধ বা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ না হলে বৈধপথে অভিবাসনের সুযোগ সঙ্কুুচিত হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ইটালি দূতাবাসে বাংলাদেশীদের ৬০ হাজার পাসপোর্ট আটকে আছে। কেননা এর সাথে প্রচুর মিথ্যা কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। এতে আমাদের দুর্নাম হয়েছে। সঠিক কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করলে ইটালি লোক নিতে রাজি আছে। তারা সুযোগ দিয়েছে বৈধপথে অভিবাসন করার জন্য। কাজেই অবৈধ বা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধের জন্য আমাদের কাছে যারা সহযোগিতা চায়, তাদের সহযোগিতা করা উচিত।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত আনার জন্য স্ট্যার্ন্ডার্ড অব প্রসিডিওর (এসওপি) আছে। এসওপির আওতায় আমরা ইউরোপে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনছি। কেননা এতে আমাদের প্রবাসীদের বৃহত্তর স্বার্থ রয়েছে। ব্রিটেনসহ ইউরোপের সব দেশে বৈধপথে অভিবাসনের অনেক সম্ভাবনার তৈরি হচ্ছে। আমরা যদি অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে না পারি, তবে বৈধপথে অভিবাসনের সুযোগ পাবো না।
ক্যাথরিন ওয়েস্ট দুই দিনের সফরে গত শনিবার ঢাকা এসে পৌঁছান। গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর এ প্রথম ব্রিটেনের কোনো মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করলেন।

Related Articles