কেউ যেন বলতে না পারে যে ন্যায়বিচার পাইনি : হাইকোর্ট

কেউ যেন বলতে না পারে যে ন্যায়বিচার পাইনি : হাইকোর্ট

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, কেউ যেন বলতে না পারে যে, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রুলের তৃতীয় দিনের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

এ দিন বিএনপির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সকালে শুনানি করেন। বিকেলে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহরিয়ার কবির। তিনি সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৭(বি)সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুচ্ছেদ নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, এই রায়টি আমরা কলমের মাধ্যমেই লিখব। মানুষ এটি ৫০ বছর বা আরও বেশি দিন মনে রাখবে। কেউ যেন বলতে না পারে যে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এর পর আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন।

শুনানির বিষয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধান অনুযায়ী করা হয়নি। এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানবিরোধী। এখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। জনগণ যাতে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে না পারে সে জন্য পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত ১৩তম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি নিজের মুখে বলেছিলেন, আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। পরবর্তীতে সাত দিন পরে সংবিধান সংশোধন হয়ে গেল। এ মামলার লিখিত রায় প্রকাশের আগেই সংবিধান সংশোধন হয়ে যায়। অপর দিকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস পরে লিখিত রায় দিলেন। তখন আমি সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে বলেছিলাম এই রায়কে কোনো রায় বলা যায় না। এবং যে পঞ্চদশ সংশোধনী হয়েছে সেটা সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। এই সব দিক আমরা আদালতে তুলে ধরে বলেছি, এই সংবিধান সংশোধনী সম্পূর্ণভাবে সংবিধানবিরোধী। তবে কিছু কিছু বিধান রয়েছে যেগুলো থাকা দরকার। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আমরা লিস্ট করে আদালতে প্লেস করব। এখানে মূল বিষয় হলো, পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধান মোতাবেক হয়নি। এটা সংবিধানবিরোধী হয়েছে।

আদালতে বদিউল আলম সুজনসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তামিম খান।

এর আগে গত ৩০ অক্টোবর প্রথম দিন এবং ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ দুই দিন শুনানি করেছেন ড. শরিফ ভূঁইয়া।

গত ১৯ আগস্ট জনস্বার্থে পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। পরে আবেদনকারী পক্ষ রুলটি শুনানির জন্য বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন কোর্টে থউপস্থাপন করেন। এরপর আদালত রুল শুনানির জন্য ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য রেখে ছিলেন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রিট করেন। অন্য চারজন হলেন- তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এর পর এ রুলের ওপর মতামত দিতে বিএনপি, জামায়াত, গণফোরাম ও আইনজীবী মোস্তফা আসগর শরিফী প্রমুখ যুক্ত হন।

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে (২০১১) বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন।

Related Articles