কৌশলগত সম্পর্ক বাড়াতে চায় ঢাকা-সিউল

কৌশলগত সম্পর্ক বাড়াতে চায় ঢাকা-সিউল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অংশীদারিত্বে উন্নীত চায়। আর এ লক্ষ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারের শীর্ষ বা উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ে জোর দেয়া হয়েছে।

গতকাল সিউলে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া চতুর্থ দফা ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. নজরুল ইসলাম। আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউনজু।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এফওসিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী আলোচনা হয়েছে। আলোচ্য বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থার (ইপিএস) অধীনে মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কোরিয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকেন্দ্র বাংলাদেশে স্থানান্তর, জ্বালানি সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি।

উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করে। তারা ২০২২ সালের মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার এফওসির পর থেকে অগ্রগতি পর্যালোচনা ও সহযোগিতার নতুন পথ চিহ্নিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করে। এ সময় বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি রূপান্তর, মৎস্য, জৈবপ্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং সমুদ্র বন্দর ও শিপইয়ার্ডের আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এফওসিতে দুই পক্ষ রাজনৈতিক আস্থা আরো গভীর করতে এবং উন্নয়ন কৌশলগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ইপিএস প্রোগ্রামের অধীনে নিয়মিত অভিবাসন এবং বৈজ্ঞানিক শিক্ষা জোরদার করার জন্য শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে। সেই সাথে তারা টেকসই মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

Related Articles