পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা হামলায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৫৯ জন।
উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক মারওয়ান আল-সুলতান জানান, মধ্যরাত থেকে আমরা ৫৮ জন শহীদের মরদেহ পেয়েছি। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। হাসপাতালের ভেতরের পরিস্থিতি ভয়াবহ।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজায় অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের এখনই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দরকার। আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, কারণ ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
গাজা ‘বসবাসের অযোগ্য’: জাতিসংঘগাজা ‘বসবাসের অযোগ্য’: জাতিসংঘ
অন্যদিকে, গাজায় মানবিক সংকটও চরমে উঠেছে। রেড ক্রিসেন্ট ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজার মানুষ এখন ‘ক্ষুধার্ত এবং যন্ত্রণাদায়ক’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে আজ বাগদাদে শুরু হওয়া আরব লিগের বার্ষিক সম্মেলনে মুখ্য আলোচনা হয়ে উঠেছে গাজায় চলমান গণহত্যা। ৩৪তম আরব শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি বলেন, ‘এই গণহত্যার মতো কদর্যতা ইতিহাসে আর দেখা যায়নি।’ গাজার পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত আরব তহবিলে ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুদানি।
১০ লাখ গাজার বাসিন্দাকে লিবিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের১০ লাখ গাজার বাসিন্দাকে লিবিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের চলমান হামলায় অন্তত ৫৩,২৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১,২০,৬৭৩ ছাড়িয়ে গেছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি – ৬১,৭০০ জনেরও বেশি – কারণ অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন এবং তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


