জবিতে শাটডাউন

জবিতে শাটডাউন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচির ঘোষণা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা শেষে রাজধানীর কাকরাইলে চলমান কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে দাবি জানাতে এসেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের উপর নির্বিচারে পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অরাজকতা এবং অন্যায়। আমরা কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে আসিনি। আমরা অধিকার চাইতে এসেছি, দাবি আদায় করতেই এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা কিংবা পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না। দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব। তিনি আরো বলেন, “আমাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাহলে তা ভালো হবে না। আমার চোখের সামনে আমার কোনো শিক্ষার্থীকে কেউ আঘাত করতে পারবে না।”

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি সেøাগান দিতে থাকেন।

এ দিকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান করেন। অবস্থান কর্মসূচি চলায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে কেউ সরে যাননি। কেউ কেউ রাতভর রাস্তায় অবস্থান করে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকালেও কর্মসূচি চালিয়ে যান।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি চালু করা; প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন দেয়া; দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাশ ও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। এর আগে, বুধবার বেলা ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলটি গুলিস্তান ও মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছলে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হয় গরম পানিও। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

ওইদিন রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জমায়েতস্থলে এসে বক্তব্য দেয়ার সময় আন্দোলনকারীরা তার বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ সেøাগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে কেউ তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়ে মারেন। এতে তিনি বক্তব্য শেষ না করেই স্থান ত্যাগ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এখনো কাকরাইল মসজিদের সামনে অবস্থান করছেন।

Related Articles