জুমার দিন সুগন্ধি ব্যবহারের তাৎপর্য ও ফজিলত

জুমার দিন সুগন্ধি ব্যবহারের তাৎপর্য ও ফজিলত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জুমাবার—মুসলমানদের কাছে এটি কেবল একটি দিন নয়, বরং সাপ্তাহিক ঈদ।
হাদীসে এ দিনকে এমনই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টির শুরু থেকেই এই দিনটি আল্লাহর নিকট বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত। মানব ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে জুমার দিনেই। এমনকি কুরআনে ‘সূরা আল-জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরাও নাজিল হয়েছে, যা দিনটির মাহাত্ম্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

আওস ইবনে আওস আস-সাক্বাফী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে এবং (স্ত্রীকেও) গোসল করাবে, সকালে জেগে উঠবে ও জাগাবে, অগ্রসর হয়ে মসজিদের দিকে যাবে, বাহনে নয় বরং পায়ে হেঁটে পৌঁছাবে, অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে—তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের সিয়াম ও কিয়ামুল লাইলের সওয়াব লেখা হবে।”
(আবু দাউদ: ৩৪৫, মান-সহিহ)

আরেকটি হাদীসে এসেছে—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের আলো ছড়িয়ে থাকবে।”
(মুসতাদারেক হাকেম ২/৩৯৯, বায়হাকী ৩/২৪৯, ফায়যুল কাদীর ৬/১৯৮)

আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ রাখবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”
(সহীহ মুসলিম)

জুমার দিনে কিছু বিশেষ আমলের প্রতি নবী করিম (সা.) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো—

  • গোসল করা
  • উত্তম পোশাক পরিধান করা
  • সুগন্ধি ব্যবহার করা
  • মনোযোগসহ খুতবা শোনা

এই চারটি বিষয় একই হাদীসে একত্রভাবে এসেছে—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সুন্দর পোশাক পরিধান করে, তার কাছে সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে গিয়ে অন্যের গায়ের উপর দিয়ে অগ্রসর না হয়ে নির্ধারিত নামাজ আদায় করে, ইমাম খুতবা শুরু করার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপচাপ থাকে—তার এই জুমা পূর্ববর্তী জুমা পর্যন্ত সংঘটিত সব ছোটখাটো গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।”
(আবু দাউদ, হাদীস : ৩৪৩)

🌿 জুমার দিন সুগন্ধি ব্যবহারের শিক্ষা হলো—
আত্মাকে যেমন পবিত্র করা জরুরি, তেমনি দেহকেও পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাহ। জুমা শুধু নামাজের নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা ও আল্লাহর নিকটে ফিরে যাওয়ার দিন। তাই সুন্দর পোশাক ও মনমাতানো সুগন্ধি দিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করা মানে—নিজেকে ইবাদতের উপযুক্তভাবে সাজিয়ে তোলা।

Related Articles