পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ বন্ধে সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ এবং হাইকোর্টের দেয়া ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ নজরে এলে আদালতের নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন চেয়ে একটি আবেদন করা হয়। শুনানিতে আদালত বর্তমানের বায়ু দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।
শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ায় বায়ু দূষণের মাত্রা কিছুটা কমলেও পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ঢাকা শহরে আবারো বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েছে এবং বায়ু দূষণ বিশ্বের এক নম্বর শহর হিসেবে স্থান অধিকার করেছে। বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যের ব্যাপক হানি ঘটছে। শুধু তাই নয়, দূষণের কারণে শত শত মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। রিটকারী আইনজীবী জানান, ঢাকার বায়ু দূষণ বন্ধে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে ২০১৯ সালে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে শহর ও তার আশপাশের এলাকার বায়ু দূষণ বন্ধে কার্যকরী পদপে নেয়ার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে বলেন।
পরে এ বিষয় নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে আদালত ৯ দফা নির্দেশনা জারি করে তা বাস্তবানের নির্দেশ দেন।
নির্দেশনাগুলো হলো- ১. ঢাকা শহরে মাটি/বালু/ বর্জ্য পরিবহনকারী ট্রাক ও অন্যান্য গাড়িতে মালামাল ঢেকে রাখা। ২. নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি/ বালু/ সিমেন্ট/ পাথর/ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা। ৩. সিটি করপোরেশন কর্তৃক রাস্তায় পানি ছিটানো। ৪. রাস্তা/ কালভার্ট/ কার্পেটিং/ খেঁাড়াখুঁড়ি কাজে টেন্ডারের শর্ত পালন নিশ্চিত করা। ৫. কালো ধেঁায়া নিঃসরণকৃত গাড়ি জব্দ করা। ৬. সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে গাড়ির চলাচল সময়সীমা নির্ধারণ ও উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমার পরে ওই গাড়ি চলাচল বন্ধ করা। ৭. অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করা। ৮. পরিবেশ লাইসেন্স ছাড়া চলমান টায়ার ফ্যাক্টরি বন্ধ করা। ৯. মার্কেট/ দোকানগুলোতে প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যাগ ভরে রাখা ও অপসারণ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের পদপে গ্রহণ করা।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, আদালতের এমন নির্দেশনা থাকার পরও কর্তৃপক্ষ অতিসামান্য ব্যবস্থা নেয়ার এবং অধিকাংশ নির্দেশনা পালন না করায় সম্প্রতি ঢাকা শহর বায় দূষণে বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কিছু পদক্ষেপ নেয়ার ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছিল এবং পরে নির্দেশনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঢাকা শহর আবারো বায়ু দূষণের শীর্ষ শহরে পরিণত হয়েছে মর্মে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।


