তিউনিসিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৯ বাংলাদেশী

তিউনিসিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৯ বাংলাদেশী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তিউনিসিয়া থেকে ১৯ জন বাংলাদেশীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় গতকাল দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অন্য দিকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইরানে প্রবেশের চেষ্টার সময় বেলুচিস্তান সীমান্তে ৩৩ জন বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পস।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তিউনিসিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ১৯ জন অনিয়মিত বাংলাদেশী নাগরিককে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে ঢাকা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা অনিয়মিতভাবে তিউনিসিয়ায় অবস্থান করছিলেন। প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশীদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় তিউনিসিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তাদের অনেকে তিউনিসিয়ায় অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিতদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। তাদের মতো অবৈধভাবে এই ভয়ঙ্কর উদ্দেশ্যে আর যেন কেউ তিউনিসিয়ায় না যায়, এ বিষয়ে পরিচিতজনদের সচেতন করার জন্য কর্মকর্তারা সবাইকে অনুরোধ জানান। এ সময় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা ও কিছু খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয় এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা ও অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

এ দিকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইরানে প্রবেশের চেষ্টার সময় পাকিস্তান-ইরান সীমান্তে ৩৩ বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি)। গত বুধবার তাফরানের কাছে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই ৩৩ বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়। বেলুচিস্তান প্রদেশের চাগাই বিভাগের মাসকিল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশীরা ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নির্জন ওই এলাকাটি দিয়ে পাকিস্তান থেকে অনেকেই ইরানে যান। যেসব বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছে তারা সম্প্রতি বৈধ উপায়ে পাকিস্তানে এসেছেন; কিন্তু কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভি জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশীরা দলবদ্ধ হয়ে ইরানের ঢোকার চেষ্টা করার সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের থামান। ইরানে যাওয়ার কাগজপত্র চাইলে তারা সেগুলো দিতে ব্যর্থ হন। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ৩৩ জনের সবাইকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই বাংলাদেশীরা কোনো মানবপাচার চক্রের সদস্য হতে পারেন, যারা সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম চালান।

Related Articles