নিজস্ব গতিতে চলবে কোটা আইন : ওবাইদুল কাদের

নিজস্ব গতিতে চলবে কোটা আইন : ওবাইদুল কাদের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কোটা নিয়ে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কোটার যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি ও অনেক বক্তব্য সংবিধান এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি বিরোধী। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গেল কয়েকটি বছর কোটা না থাকায় নারীদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক। এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও পিছিয়ে পড়েছে।

গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, পবিত্র সংবিধানের আলোকেই কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রাষ্ট্র। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে সরকারি চাকরিতে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি হতাশাজনকভাবে কমেছে। কোটা না থাকায় পুলিশে মাত্র চারজন নারী অফিসার সুযোগ পেয়েছে, ফরেন সার্ভিসে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুজন। ৫০টি জেলার নারীরা ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেয়ার সুযোগ পায়নি। ২৩টি জেলায় একজনও পুলিশে চাকরি পায়নি। ফলে জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে মেধা তালিকায় নিয়োগ পায় ৭০ শতাংশের মতো। ৩৩, ৩৪, ৩৫তম বিসিএসে ৭২ শতাংশ প্রার্থীকে মেধার ভিক্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেখানে কোটায় নিয়োগ পেয়েছে ২৮ শতাংশ। শূন্য পদগুলোতে মেধা তালিকা থেকে নেয়া হয়েছে। কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে যেখানে মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হচ্ছে, সেখানে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই কোটার ভিত্তিতে সবচেয়ে কম নিয়োগ দেয়া হয়- এ তথ্য উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ভারতে ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৯২.৫ শতাংশ, নেপালে ৪৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৫০ শতাংশ কোটায় নিয়োগ দেয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৬০ শতাংশ কোটা চালু রয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আমাদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় কোটার প্রয়োজন রয়েছে। বিদ্যমান অন্তর্ভুক্তি এটা যৌক্তিক।

শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে একটি কুচক্রী মহল রাষ্ট্রকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছেÑ এমন অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, এই অশুভ শক্তি এর আগেও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছে। ২০১৮ সালে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন হয়, তখন রাজনৈতিকভাবে পরাজিত এই অশুভ শক্তি এই আন্দোলনের ওপর ভর করেছিল। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনেও ভর করে রাজনৈতিক রূপ নেয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। ওই মহলটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করার জন্য এবং এ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুতির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তারুণ্যের শক্তিতে আস্থা রাখে। আমরা বিশ্বাস করি, তারুণ্যের সবাইকে নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সমান সুযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।

এর আগে পেনশন স্কিম নিয়ে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ১৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এ নিয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, পেনশন স্কিম ২০২৪ না ২০২৫ এ নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তা দূর হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের পয়লা জুলাই থেকে সবার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম। শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সমাধান হবে।
এ সময় দেশের ১৫টি জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।

Related Articles