নিত্যপণ্যের বাজারে নেই শৃঙ্খলা, দামের ফারাক আকাশ পাতাল

নিত্যপণ্যের বাজারে নেই শৃঙ্খলা, দামের ফারাক আকাশ পাতাল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: মোহাম্মদপুর বসিলা রোডের পাশের কাঁচাবাজারে সবজি ব্যবসায়ী মো. এখলাছ নতুন আলুর দাম চান প্রতি কেজি ২৪০ টাকা। অন্যদিকে শিয়া মসজিদ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মনোয়ারা বেগম জানালেন, কারওয়ান বাজারে নতুন আলু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। ২০০ টাকা দরে আলু বিক্রি করা যাবে না বলে মনোয়ারা নতুন আলু কেনেননি।

সরেজমিনে শিয়া সমজিদ এলাকায় মাছবাজারে গেলে দেখা যায়, এক মাছ ব্যবসায়ী পাঁচমিশালি ছোট মাছের দাম চাইলেন ৬০০ টাকা কেজি। পরে পাশের মাছ দোকানদার মো. খোকন মিয়া বলেন, উনি বেশি বলেছেন, আসলে ৪০০ টাকা। শেষে ৪০০ টাকা ছোট মাছ বিক্রি করতে চাইলেন।

বাজারের এমন পরিস্থিতি কেন বা দামের তরতাম্যের কারণ জানতে চাইলে বাজার মনিটরিংকে দায়ী করেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং হয় না, কোনও শৃঙ্খলা নেই কাঁচাবাজারে। যার যেমন ইচ্ছা দাম হাঁকাচ্ছেন। আলুর দাম গত কয়েক দিনে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকার বেশি।

এসব বাজারে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগে যেই আলুর কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৬০ টাকা। গোল লাল আলুও বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে।

শিয়া মসজিদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহাগ খান বলেন, ৩৫ টাকার আলু এখন ৬০ টাকা। কোল্ডস্টোরেজে নতুন আলু পুরোপুরি উঠলে হয়তো কোল্ডস্টোরেজের মালিকরা আলু ফেলে দেবেন, কিন্তু মানুষকে কম দামে খেতে দেবেন না।

ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই আলু নতুন আলু বাজারে পুরোপুরি আসবে। তখন হয়তো দাম কমবে। নতুন আলু বেশি দামে কেউ কিনবে না, তাই দোকানে রাখিনি।

সবজি ব্যবসায়ী এখলাস জানান, নতুন আলু ২৪০ টাকা, পুরনো সাদা আলু ৬০ ও লাল আলু ৭০, ছোট ফুলকপি ৫০, লাউ ৫০, কাঁচামরিচ ১৫০, টমেটো ১২০, ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ ও দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা। কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, সাধারণ বেগুন ৮০, করোলা ৮০, পটল ৬০, ঝিঙা ৮০, ধুন্দল ৮০, দেশি জাতের গাজর ৮০, হাইব্রিড গাজর ১০০ ও চিচিঙ্গা ৭০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, দোকানভেদে দামের তফাত রয়েছে। পাইকারিভাবে কোন বাজারে কিনছে, তার ওপর নির্ভর করছে দাম। তবে অনেকে বেশি নিচ্ছেন নিজের ইচ্ছামতো। সেটি তার লাভ-লোকসানের বিষয়।

সবজি বিক্রেতা মেনোয়ারা জানান, লাউ ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০, ধুন্দল ৬০, শিম ১৬০, বেগুন জাতভেদে ১০০ থেকে ১৩০ ও কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা কেজি। বিভিন্ন দোকোনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, কচুমুখি ৮০, চালকুমড়া এক পিস ৬০ থেকে ৭০ ও মুলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

মাছবাজারে গিয়ে দেখা গেছে দামের ঊর্ধ্বগতি। তিন থেকে চার কেজি ওজনের রুই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৪৫০ থেকে ৫০০, ছোট শিং মাছ ৪০০ টাকা কেজি, পুঁটি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। মাছের দাম নতুন করে বাড়েনি। তবে কিছুদিন থেকেই মাছের দাম বেশি।

গত কোরবানির পর থেকে মাংস বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও, বাজার পরিস্থিতি আগের মতোই। মাংস ব্যবসায়ী মোশারফ জানান, গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি। মাংস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম মিলন এক কেজি গরুর মাসের দাম নিচ্ছেন ৭৫০ টাকা।

আমিনুল বলেন, অনেকে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দাম রাখছেন এক কেজি গরুর মাংসের। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়।

গত এক সপ্তাহে মুরগির মাংসের দাম বাড়েনি বলে জানান মুরগি ব্যবসায়ীরা। সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *