সূত্র: বিবিসি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পুতিন কি আধুনিক রাশিয়ার ‘জার’ হয়ে উঠছেন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম ক্ষমতায় বসেছিলেন ২০০০ সালে। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখলেন তিনি। তাঁর আমলে প্রথম দিকে রাশিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলেও এখন চিত্র ভিন্ন। দিন দিন কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছেন তিনি। বিবিসির রাশিয়াবিষয়ক সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ মনে করেন, পুতিন আধুনিক যুগের জার (রুশ সম্রাট) হয়ে উঠছেন। কেন তাঁর এ ধারণা—লিখেছেন সে বিষয়ে।
বিবিসি
আপডেট: ০৯ মে ২০২৪, ০১: ২৯
ফলো করুন
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রেমলিনে শপথ অনুষ্ঠানের আগে হেঁটে আসছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ৭ মে, ২০২৪
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রেমলিনে শপথ অনুষ্ঠানের আগে হেঁটে আসছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ৭ মে, ২০২৪ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্যালেস থেকে সেন্ট অ্যান্ড্রুস থ্রোন হল। মাঝের লালগালিচায় মোড়া পথ ধরে হেঁটে গেলেন ভ্লাদিমির পুতিন। শপথ নিলেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এর আগেও চারবার একই পথে থ্রোন হলে গিয়ে শপথ পাঠ করেছেন তিনি। বলা চলে, পুতিন এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন যে চোখ বেঁধে দিলেও পথটি চিনতে ভুল করবেন না।
মঙ্গলবার এই শপথের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আরও ছয় বছরের জন্য নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন পুতিন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রীসহ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা একতাবদ্ধ ও মহান মানুষ। একসঙ্গে থেকে আমরা সব বাধা পেরিয়ে যাব। আমাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। একসঙ্গে আমরা জিতবই।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিন প্রথম ক্ষমতায় বসেন ২০০০ সালের মে মাসে। তারপর থেকে অনেক কিছুই বদলেছে। সে সময় পুতিন ‘গণতন্ত্র রক্ষা ও সমুন্নত’ করার কথা বলতেন। ২৪ বছর পর এখন সেই তিনিই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন। রাশিয়ার গণতন্ত্র সমুন্নত করার বদলে এর কণ্ঠরোধ করেছেন। পথের সব কাঁটাকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।
পুতিন এখন নিজেকে ‘ভ্লাদিমির দ্য গ্রেট’ বা রাশিয়ার একজন জার (সম্রাট) বলে মনে করেন—এমনটাই বিশ্বাস হোয়াইট হাউসের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিওনা হিলের। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পুতিনের প্রথম দুই মেয়াদের দিকে তাকাই, তাহলে সে সময়ের মূল্যায়নটা মোটামুটি তাঁর পক্ষেই যাবে। তিনি রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এনেছিলেন। দেশকে আবার স্বচ্ছল বানিয়েছিলেন। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে তখন রাশিয়ার অর্থনীতি ও শাসন ব্যবস্থা ভালো ছিল।’


