বাড়ি ভাড়া ও উৎসব বোনাস বাড়ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

বাড়ি ভাড়া ও উৎসব বোনাস বাড়ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে এখন থেকে এই শিক্ষকরা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত না রেখে মূল বেতনের শতাংশ হারে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। তাতে সর্বনিম্ন বাড়ি ভাড়া ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে মূল বেতনের ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বড় অংশই নিজের বাড়িতে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। তাই তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতার তেমন প্রয়োজন হয় না।

‘তবু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে মূল বেতনের শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা না দিয়ে প্রত্যেকের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বাড়ানোর সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ,’ বলেন জানান ওই কর্মকর্তা।

সারাদেশে স্কুল ও কলেজে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ জন। বর্তমানে ১ হাজার টাকা হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দিতে প্রতি বছর সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা ৩৫৭ কোটি টাকা ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা ১১২ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আগে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ উৎসব বোনাস পেতেন। সম্প্রতি তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে বছরে ২২৯ কোটি টাকা।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বাড়তি চাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য ‘টেনশনের’ ব্যাপার উল্লেখ করে মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ”আমার সবচেয়ে ভয়ের কারণ হলো নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন ও এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বাড়তি চাপ।”

তিনি আরও বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিল থেকে বেতন স্কেল কার্যকর করা হলেও জুন পর্যন্ত বাড়তি বেতনের টাকা চলতি বাজেটেই সংস্থান করতে হবে। এছাড়া সরকার বিপুল পরিমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছে, যাদের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে।’

Related Articles