ভাড়াটিয়ার রডের আঘাতে মারা গেল বাড়িওয়ালা

ভাড়াটিয়ার রডের আঘাতে মারা গেল বাড়িওয়ালা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভাড়াটিয়ার রডের আঘাতে মারা গেলেন বাড়িওয়ালা। ঘটনা মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার গুয়াতলা এলাকায়। ভাড়াটিয়ার রডের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়িওয়ালা ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে আহত আবু আলম আকন মারা যান। হামলার পর তার বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হওয়ায় ডাক্তাররা হৃদরোগ সনাক্ত করে রিং স্থাপন করার পর রাতেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবচর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের নিহত আবু আলমের বাড়িতে মায়া বেগম দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ভাড়া থাকেন। মায়া বেগমের বাবার বাড়ি অপর পাশেই। মায়া বেগম ও তার পরিবারের উচ্ছৃঙ্খল চলাচলে বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ি ছেড়ে দিতে তাকে নোটিশ দেন। কিন্তু ভাড়াটিয়া কিছুতেই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাননি। এরই জেরধরে গত সোমবার দুপুরে (২৪ আগস্ট) বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন এর সাথে ভাড়াটিয়া মায়া বেগমের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায় ভাড়াটিয়া মায়া বেগমের ভগ্নিপতি বিপ্লব মিয়ার নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একটি দল বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়। তাকে মারধরসহ বুকে রড দিয়ে আঘাত করে। বুকে রডের আঘাতের এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করেন।

ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়ার পর হৃদরোগ ধরা পরে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বুকে রিং পরান। দুইদিন চিকিৎসার পরে অবস্থা অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে (২৭ আগস্ট) চিকিৎসাধীন আবু আলম আকন মারা যান।

ওই বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া মো. রুহুল আমিন জানান, বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাদের মাঝে মাঝেই ঝগড়া বিবাদ হতো। গত সোমবার দুপুরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সাথে ঝগড়া বিবাদ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন গুরুতর আহত হয়। আমিই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

নিহতের স্ত্রী নার্গিস সুলতানা বলেন, মায়ার বাবার বাড়ি উল্টো পাশে হওয়ায় ওরা একসাথে আমার স্বামীর উপর হামলা চালায়। ওরা বুকে কিল ঘুসি ও রড দিয়ে বেদম প্রহার করে। এসময় বুকে প্রচন্ড ব্যাথা হলে প্রথম শিবচর ও পরে ঢাকায় নেওয়া হয়।

শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার মধ্যে ভাড়া দেওয়া নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারির ঘটনায় নিহত আবু আলম আকনের ভাই বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তার হৃদরোগজনিত কারণে বুকে রিং পরানো হয়। একদিন পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *