পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সময় কি আর কারও জন্য অপেক্ষা করে? এক অনন্ত স্রোতের মতো সে কেবলই বয়ে চলে। মনে আছে, সেই প্রথম রমজানের দিন? কী এক আনন্দ, কী এক শিহরণ! কিন্তু আজ? আজ ১৬ রমজান। প্রায় শেষ হতে চলেছে মাগফিরাতের দশক।
রমজানের প্রথম দশক ছিল রহমতের, এখন শেষের পথে মাগফিরাতের দশক। এই দশকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করেন, তাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন। কিন্তু আমরা কী করছি? আমাদের ঝুলি কি এখনো খালি? নাকি তওবার অশ্রুতে, নামাজের সিজদায়, সৎকর্মে, দান-সদকায় একটু একটু করে ভরতে পেরেছি?
আসলে আমরা দুনিয়ার হিসাব-নিকাশে এত ব্যস্ত হয়ে যাই যে, পরকালের ঝুলি কতটা শূন্য হয়ে আছে, সেটা নিয়ে ভাবতে ভুলে যাই। অথচ এই রমজানই তো ছিল সেই সুযোগ, যেখানে আমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারতাম! আমাদের রব তো কত সহজেই ক্ষমা করতে প্রস্তুত, শুধু আমরা তাঁর দিকে ফিরে যেতে দেরি করে ফেলি।
আর কত দেরি?
মাগফিরাতের শেষ দিনগুলো চলে যাচ্ছে, আর সামনে আসছে নাজাতের দশক—যেখানে দোজখ থেকে মুক্তি পাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। আমরা কি নিশ্চিত, আমাদের নাম সেই মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় থাকবে?
এখনো সময় আছে! এখনো দরজা বন্ধ হয়নি! আসুন, চোখের পানি ফেলি, হৃদয় খুলে বলি—
“হে আল্লাহ! আমি ভুল করেছি, আমি গুনাহ করেছি, তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আমি তোমারই দাস, আমি তোমারই শরণাপন্ন!”
রমজান কি আবার আসবে? আমাদের কি সুযোগ হবে আবার এভাবে ডেকে ওঠার?
নাকি এটাই আমাদের জীবনের শেষ রমজান?
একটা সিজদা, একটা তওবা, একটা খাঁটি দোয়া—এটাই হতে পারে আমাদের মুক্তির সোপান। তাই আর দেরি নয়। আসুন, ঝুলিটাকে পূর্ণ করি আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত আর বরকতে।
হে আল্লাহ! আমাদের রোজাগুলো কবুল করো, আমাদের গুনাহগুলো মাফ করো, আমাদের জান্নাতের পথে এগিয়ে দাও। আমিন!


